
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেই রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় দু’বছর আগে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। সংসদের অধ্যক্ষ হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল জামাত-ই-ইসলামি প্রার্থী করেছে তাদের জোটের অন্যতম শরিকদল এলডিপির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ওলি আহমেদকে। বাংলাদেশের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। বাংলাদেশের সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তাই ফখরুলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অসুস্থতা এবং তারেক রহমানের বিদেশবাসের সময় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফখরুল। ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল হন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে মির্জা ফখরুল সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রোববার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। গত ৬ আগস্ট ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১-এ সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে মির্জা ফখরুলকে তার সংসদীয় আসন ছাড়তে হবে। ফলে আসনটি শূন্য হবে। আসনটির উপনির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভেতরে নতুন মুখ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও দলীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের পরিবারের সদস্যদের নামও আলোচনায় এসেছে। মির্জা ফখরুলের আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে তাঁর ভাই ও মেয়ের নামও। এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম অর্থাৎ হিরো আলম।
কী বলছেন হিরো আলম?
রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে হিরো আলম বলেন, আগে তিনি সাতক্ষীরার একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হওয়ার সম্ভাবনার খবর জানার পর তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। হিরো আলমের বক্তব্য, ‘আমি আগে সাতক্ষীরা থেকে নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন জানতাম না মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের আসনটি ফাঁকা হতে পারে। আমার এলাকার মানুষও চান আমি উত্তরাঞ্চলের কোনও আসন থেকেই নির্বাচনে দাঁড়াই। সেই চিন্তা থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ হিরো আলম জানিয়েছেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয়, নির্দল প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান। সোশ্যাল মিডায়ায় হিরো আলম বলেন, 'শুনতে পাচ্ছি মির্জা ফখরুলের মেয়ে এই আসনে প্রার্থী হবেন। তাহলে আমাদের মতো জনসাধারণ সুযোগ পাবে কী করে?' প্রসঙ্গত, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা করে আলোচনায় এসেছিলেন হিরো আলম। এবারও প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছেন হিরো আলম ।