Advertisement

'PM কিষাণ' থেকে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', ইশতেহারে ভারতকে যেভাবে টুকল বাংলাদেশের দলগুলি

Bangladesh Election 2026: ভারতই কি বাংলাদেশের আদর্শ? ভোটের আগে সেদেশের রাজনৈতিক দলগুলির ইশতেহার দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে। ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি নীতি-প্রকল্পের ছাপ স্পষ্ট বিএনপি-জামাতের ইশতেহারে। 

ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি নীতি-প্রকল্পের ছাপ স্পষ্ট বিএনপি-জামাতের ইশতেহারে। ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি নীতি-প্রকল্পের ছাপ স্পষ্ট বিএনপি-জামাতের ইশতেহারে। 
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 10 Feb 2026,
  • अपडेटेड 1:35 PM IST
  • আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট।
  • পাশাপাশি সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় গণভোট।
  • ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন।

Bangladesh Election 2026: ভারতই কি বাংলাদেশের আদর্শ? ভোটের আগে সেদেশের রাজনৈতিক দলগুলির ইশতেহার দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে। ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি নীতি-প্রকল্পের ছাপ স্পষ্ট বিএনপি-জামাতের ইশতেহারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট। পাশাপাশি সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় গণভোট (July Charter)। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে এটিই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। মূল দুই প্রতিদ্বন্দী, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP), জামাত-এ-ইসলামি ও ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)। আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধ। লক্ষ্যণীয় ব্যাপারটি হল, শেখ হাসিনার আমলে যে দলগুলি নিষিদ্ধ বা চাপে ছিল, তারাই এবার স্বমহিমায় ভোটের ময়দানে। ইসলামি ভাবধারার জামাত, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি এবং ছাত্র আন্দোলনের সংগঠন এনসিপি; এই তিন শক্তিকে কেন্দ্র করে রীতিমতো জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জামাত ও এনসিপি জোট বেঁধেছে।

এহেন প্রেক্ষাপটে অস্থির বাংলাদেশের মসনদ দখলে মরিয়া দলগুলি। দুই পক্ষই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিশ্রুতিতে অনেকটাই ভারতের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রকল্পের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষক কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য; একাধিক ক্ষেত্রে ভারতেরই উন্নয়ন মডেলের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

BNP-র ইশতেহারে জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি তাদের ইস্তাহারে 'জনকল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ' গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

BNP ইশতেহারে যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে;

ফ্যামিলি কার্ড: দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা নগদ(লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো?) বা সমপরিমাণ প্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া। এটি ভারতের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করা হচ্ছে।

ফার্মার কার্ড: কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, সহজ ঋণ, ফসল বীমা, ন্যায্য দাম ও সরকারি বিপণন ব্যবস্থা। ভারতের কৃষক কল্যাণ কর্মসূচির সঙ্গে এর মিল রয়েছে।

স্বাস্থ্য: ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা স্তরে চিকিৎসা পরিষেবা উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে জোর।

শিক্ষা: মিড-ডে মিল, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্নাতকোত্তর শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহায়তা।

Advertisement

যুব কর্মসংস্থান: ১ কোটি চাকরি, যার মধ্যে ১০ লক্ষ আইসিটি ক্ষেত্রে।

অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু।

পরিবেশ: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী পুনর্গঠন ও নতুন খাল নির্মাণ, ২৫ কোটি গাছ লাগানো।

বিদেশনীতি: ভারতের মতো 'Bangladesh First' নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে মৃত্যু বন্ধ, তিস্তা-পদ্মার জলবণ্টন ইত্যাদি বিষয়েরও উল্লেখ রয়েছে।

জামাত-ই-ইসলামির ইশতেহার
শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে জামাত-ই-ইসলামি তাদের 'People’s Manifesto' প্রকাশ করেছে। তাতে 'Safe and Humane Bangladesh' গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ঠিক ভারতের বিজেপির মতো করেই আলাদাভাবে অর্থনীতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ২০৪০ সালের মধ্যে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি, মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলার, আইসিটি খাতে ২০ লক্ষ চাকরি, ইসলামিক ব্যাঙ্কিং চালুর টার্গেট নেওয়া হবে।

পাশাপাশি নারী ও যুবকদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, আধুনিক-চাকরিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

বিদেশনীতিতেও চমক দিয়েছে জামাত। সেখানে ভারত-সহ প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। 

ফলে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে ভারতের প্রভাব বেশ স্পষ্ট। তবে এবার পুরোটাই নির্ভর করছে ভোটের ফলাফলের উপর। সেটাই ঠিক করবে, এরপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে এগোয়।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement