Advertisement

বাংলাদেশের বিদেশনীতিতে 'ইসলামীকরণ', পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদির সঙ্গে কেন ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন তারেক?

চেল্লানির মতে, বাংলাদেশ যদি এই তিন দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটবদ্ধ হয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে। 

তারেক রহমান তারেক রহমান
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও কলকাতা ,
  • 25 Aug 2026,
  • अपडेटेड 2:28 PM IST
  • বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ইতিবাচক
  • মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের

বাংলাদেশ বিদেশনীতির ক্ষেত্রে ক্রমাগত ইসলামপন্থী হয়ে পড়ছে। তার প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে। দাবি করলেন প্রবীণ ভূ-কৌশলবিদ ব্রহ্ম চেল্লানি। তিনি বলেন, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। চলতি মাসের শুরুতে তিন দেশের স্বাক্ষরিত মক্কা বা ইসলামি ন্যাটো প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ দেখিয়েছে। এর থেকেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ইতিবাচক। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।

চেল্লানির দাবি, এই প্রথম কোনও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিলেন। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মক্কা চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ সেখানে যোগ দিলে তারাও পাশে পেতে পারে বাকি তিন দেশকে। 

চেল্লানির মতে, বাংলাদেশ যদি এই তিন দেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটবদ্ধ হয়, তাহলে ভারতের সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে পারে। এর পাশাপাশি চিনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে তারেক রহমানের সরকার। জুন মাসে বেজিং সফরে গিয়ে রহমান চিনকে বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান ও বিশ্বস্ত অংশীদার বলে অভিহিত করেছিলেন।

চেল্লানি বলেন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা এবং একইসঙ্গে চিনের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টিকে BNP-র ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত।

তাঁর কথায়, 'ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামপন্থী শক্তিগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থনভিত্তি শক্তিশালী করতে প্রায়ই ভারত-বিরোধী বার্তা ব্যবহার করেছে।'  চেল্লানির মতে, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তারেক রহমানের বিদেশনীতি কোনও নতুন পথ নয়। বরং অনেক বেশি কৌশলগত অবস্থান। 

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। এখনও তিনি ভারতে তাঁর প্রথম সরকারি সফর করবেন কি না, তা চূড়ান্ত হয়নি। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে তাঁকে দু’বার আমন্ত্রণ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত রহমানের তরফে কোনও সাড়া আসেনি। হাসিনার বিদায়ের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যেও সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগিয়েছে। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদও এই পরিবর্তন নিয়ে ভারতকে সতর্ক করেছেন।

Advertisement

চলতি মাসের শুরুতে নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়াজেদ দাবি করেন, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-সহ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে বাংলাদেশে ‘অবারিত স্বাধীনতা’ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভারতের সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত, তা হল বাংলাদেশ পূর্ব সীমান্তে আরেকটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে।' 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement