
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে জল আবারও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গ্রামীণ বিকাশ মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে বলেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে চলা গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তিটি বাংলাদেশের 'প্রত্যাশা ও প্রয়োজন' অনুযায়ী হওয়া উচিত।
আলমগীর বলেছেন, ঢাকা ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়, একটি নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা দ্রুত শুরু করা উচিত। তিনি বলেন, নতুন কোনও সমঝোতায় না পৌঁছানো পর্যন্ত পুরনো চুক্তিটিই চালু থাকা উচিত। তিনি আরও পরামর্শ দেন, ভবিষ্যতের জল বণ্টন চুক্তিগুলো কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।
ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর গঙ্গা নদীকে পদ্মা বলা হয়। এই নদীটি কৃষি, পানীয় জল, মৎস্য ও পরিবেশের জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের দাবি, ফরাক্কা ব্যারেজ শুষ্ক মরসুমে জলের প্রবাহ কমিয়ে দেয়, যার ফলে অনেক এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ে এবং কৃষির ক্ষতি হয়।
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি পদ্মা নদীর ওপর একটি বড় ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ঢাকার দাবি, এর লক্ষ্য হলো ফরাক্কা ব্যারেজের ‘নেতিবাচক প্রভাব’ প্রশমিত করা। তবে, কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, এর ফলে নদীতে পলি জমা ও জলস্তর বৃদ্ধির সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগেও BNP নেতারা তিস্তা জল চুক্তি প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকে নিশানা করেছিলেন। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ভারত-বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি আটকে রেখেছে। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এর ফলে তিস্তা আলোচনা এগিয়ে যেতে পারে।
এদিকে ভারত সম্প্রতি জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে জল বিবাদ নিরসনে বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন ৫৪টি নদী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে। তবে, বিএনপি সরকার এখন গঙ্গা চুক্তিকে তাদের সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করায়, আগামী মাসগুলোতে জল রাজনীতি একটি বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিএনপি সরকারের প্রথম সারির মন্ত্রীর এই বিবৃতি নতুন করে নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।