Advertisement

Bangladesh Protest: বাংলাদেশে ৫০০ ফ্যাক্টরি বন্ধ করে রাস্তায় লক্ষ-লক্ষ গার্মেন্টস কর্মী, কী দাবি? জানুন

আবারও অশান্ত বাংলাদেশ। এপিসেন্টার ঢাকা। বেতনবৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক। কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। ভাঙচুর। অগ্নিসংযোগ।

কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। ভাঙচুর। অগ্নিসংযোগ। কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। ভাঙচুর। অগ্নিসংযোগ।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 02 Nov 2026,
  • अपडेटेड 3:57 PM IST
  • বেতনবৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক।
  • আন্দোলনের জেরে রবিবার বাংলাদেশের অন্তত ৫২৯টি পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
  • সোমবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

আবারও অশান্ত বাংলাদেশ। এপিসেন্টার ঢাকা। বেতনবৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক। কোথাও রাস্তা অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ। ভাঙচুর। অগ্নিসংযোগ। আন্দোলনের জেরে রবিবার বাংলাদেশের অন্তত ৫২৯টি পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (BGMAE) হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৯ লক্ষ ৮৭ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সোমবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

কেন রাস্তায় পোশাকশ্রমিকরা?
শ্রমিকদের প্রধান দাবি, মাসিক ন্যূনতম বেতন ১২,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, খাবার, বাড়িভাড়া, যাতায়াত এবং চিকিৎসার খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। অথচ সেই তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো অসম্ভব। বিশেষত ঢাকা ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে মাথার ঠাঁই খুঁজতেই এই বেতন বেরিয়ে যাচ্ছে।

গত ৩১ অক্টোবর থেকে মীরপুর, আশুলিয়া, সাভার এবং গাজীপুরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। রবিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কয়েকটি জায়গায় পুলিশের গাড়ি ও কারখানার সিকিউরিটির বুথে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পাল্টা কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

কয়েকটি জায়গায় পুলিশের গাড়ি ও কারখানার সিকিউরিটির বুথে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

সোমবারও উত্তপ্ত ঢাকা 
সোমবার কারখানা খোলার কথা থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় ফের বিক্ষোভ শুরু হয়। মীরপুরের একাধিক জায়গায় শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করেন। আশুলিয়াতেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতি তৈরি হয়। গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল হাইওয়েতে অবরোধের জেরে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তায় যানজট পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সঙ্কটে বাংলাদেশের অর্থনীতি
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান পিলার এই গার্মেন্টস শিল্প। ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নামী পোশাক, জুতোর ব্র্যান্ডই বাংলাদেশে আউটসোর্সিং করে। এর মূল কারণ হল, বাংলাদেশে খুব সস্তায় দক্ষ গার্মেন্টস কর্মী পাওয়া যায়। বহু ফ্যাক্টরিও রয়েছে, যেগুলি বিদেশের বড় ব্র্যান্ডের থেকে চুক্তির ভিত্তিতে পোশাক তৈরি করে। সেই পোশাক কয়েক গুণ দামে বিক্রি হয় আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সারাদিন পরিশ্রমের পরও নামমাত্র পারিশ্রমিক পান বাংলাদেশের গার্মেন্টস কর্মীরা। কিন্তু দেশে চাকরির অভাবের কারণে, এই পেশাই বেছে নিতে বাধ্য হন লক্ষ-লক্ষ যুবক-যুবতী। সেই স্থান থেকেই এঁদের ক্ষোভ।

Advertisement
গার্মেন্টস শিল্পই ভরসা লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীর।

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শুধুমাত্র গার্মেন্টস সেক্টর থেকেই প্রায় ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ। সেদেশের মোট রফতানির ৮১ শতাংশেরও বেশি। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য় এর গুরুত্ব ঠিক কতটা, তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের বরাত, রফতানি এবং কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়তে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিমধ্যেই ছয় সদস্যের নতুন লেবার বোর্ড গঠন করেছে সরকার। তবে শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার দাবি এবং মালিকপক্ষের লোকসান হওয়ার দুশ্চিন্তার ডামাডোলে আপাতত সমাধানের পথ যে বেশ অস্পষ্ট, তা বলাই বাহুল্য।  

Read more!
Advertisement
Advertisement