
বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আগে ইশতেহার প্রকাশ করল বিএনপি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৯ প্রতিশ্রুতির ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেলে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনাস্থলে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিএনপির ইশতেহারে যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে-
১. প্রথম আলো সূত্রে খবর, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দেবে। এতে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
২. ‘কৃষক কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এই কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজে ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামার ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও এই সুবিধা দেওয়া হবে।
৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর জন্য দেশব্যাপী এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করার কথা বলা হয়েছে।
৪. শিক্ষাব্যবস্থা আনন্দময় ও কর্মমুখী করে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।
৫. তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি, স্টার্টআপ, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা বাড়ানো হবে।
৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু নিয়ে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী, খালখনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনাস্থলে ধর্মীয় নেতাদের জন্য সাম্মানিক ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৯. এছাড়া, ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু ও ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর থেকেই অশান্ত বাংলাদেশ। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনার মধ্যে দিন কয়েক পর নির্বাচন হতে চলেছে। এবারের নির্বাচনে নিষিদ্ধ আওয়ামি লীগ। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ভোট পেতে সম্প্রীতির পথে হাঁটছে বিএনপি। জিতে ক্ষমতায় এলে হিন্দু সহ সব ধর্মের ধর্মগুরুদের সাম্মানিক ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি বিএনপি চেয়ারম্যানের।