Advertisement

Hilsa Trade Controversy: গুজরাতের ইলিশ খাবে না বাংলাদেশ, হঠাত্‍ নিষেধাজ্ঞা তারেকের, কেন?

২০১৯ সাল থেকে শুধু দুর্গাপুজোর ‘উপহার’ হিসেবে কিছু ইলিশ পাঠায় বাংলাদেশ। অতিমারির পর থেকে সেই পরিমাণ আরও কমেছে। এবারও আশা করা হচ্ছে পুজোর সময় ইলিশ আসবে পদ্মা থেকে। তবে এবছর উলট্‌পুরাণ ঘটেছে। এই প্রথম বার বাংলাদেশে উৎপাদন কম হওয়ায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করেছে ঢাকা। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এক নম্বরে হলেও এহেন ঘটনায় স্বভাবতই সেদেশে অস্বস্তি বেড়েছে। ফলে ভারত থেকে হঠাৎ করেই ইলিশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বসাল তারেক রহমানের সরকার। ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে সেই নিষেধাজ্ঞা।

ভারতীয় ইলিশে 'না' তারেকেরভারতীয় ইলিশে 'না' তারেকের
Aajtak Bangla
  • ঢাকা,
  • 24 Sep 2026,
  • अपडेटेड 11:39 AM IST

২০১৯ সাল থেকে শুধু দুর্গাপুজোর ‘উপহার’ হিসেবে কিছু ইলিশ পাঠায় বাংলাদেশ। অতিমারির পর থেকে সেই পরিমাণ আরও কমেছে। এবারও আশা করা হচ্ছে পুজোর সময় ইলিশ আসবে পদ্মা থেকে। তবে এবছর উলট্‌পুরাণ ঘটেছে।  এই প্রথম বার বাংলাদেশে উৎপাদন কম হওয়ায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করেছে ঢাকা। ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ এক নম্বরে হলেও এহেন ঘটনায় স্বভাবতই সেদেশে অস্বস্তি বেড়েছে। ফলে ভারত থেকে হঠাৎ করেই ইলিশ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বসাল তারেক রহমানের সরকার। ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে সেই নিষেধাজ্ঞা।

আর বাংলাদেশে যাবে না ভারতের ইলিশ
হঠাৎ করেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানিতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার সে দেশের মৎস্য দফতরের তরফে ১০৩টি ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি (NOC) বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে মাথায় হাত পড়েছে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের। বড়সড় আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তবে ঠিক কী কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো, সে বিষয়ে তারেক রহমান সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। জানা গিয়েছে মৎস্য দফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মহম্মদ খালেদ কনকের নির্দেশে বাতিল হয়েছে ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনুমতিপত্র। ২২ সেপ্টেম্বরের এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের জোগানে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত?
বাংলাদেশ মৎস্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্য থেকে মোট ১,৭৪০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত শুধুমাত্র বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৫৪০ টন ইলিশ ভারতে থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, অনুমোদিত কোটার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই আমদানি করা হয়েছিল। এরপরও হঠাৎ করে বাকি আমদানি বন্ধ করার সিদ্ধান্তে বাণিজ্য মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ভারত থেকে যে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছিল, তার একটি বড় অংশ পদ্মার ইলিশ বলে বাজারে চালিয়ে দিচ্ছিল অসাধু চক্র। ভারতে প্রতি কেজি ইলিশের দাম যেখানে প্রায় ৫০০ টাকা পড়ছে, সেগুলিকেই বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে চড়া দামে, এমনকি ৩০০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এছাড়া অতিরিক্ত মুনাফার লোভে আমদানির নথিতে দাম বেশি দেখানোর কারচুপির অভিযোগও উঠছে।

Advertisement

আশঙ্কা দানা বেঁধেছে বাংলাদেশ সরকারের মনে?
অন্যদিকে, আরও একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে বাংলাদেশের জেলেদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের আশঙ্কা, ভারত থেকে নির্বিচারে বেশি পরিমাণে ইলিশ এলে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে দেশিয় ইলিশ ধরার প্রতি মৎস্যজীবীদের আগ্রহ ও জোগান ব্যাহত হতে পারে। উল্লেখ্য, ভারত থেকে যে ইলিশ পাঠানো হচ্ছিল, তার বেশিরভাগটাই গুজরাতের সামুদ্রিক ইলিশ, যা ডিমে ভরতি থাকে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো অঞ্চলে এই ডিমভর্তি ইলিশের চাহিদা বেশ ভালোই রয়েছে। তবে হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞার জেরে দুই দেশের বাণিজ্য মহলেই এখন তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা
বাংলাদেশের মৎস্য দফতরের দেওয়া ১০৩টি NOC বাতিলের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুদেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভারতীয় অংশে ইলিশ কেনা বাংলাদেশি আমদানিকারকরাও বিপাকে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশি আমদানিকারকরা মৎস্য দফতরের NOC-র ভিত্তিতে ভারতীয় অংশে ইলিশ কেনার প্রস্তুতি নেন। কেউ কেউ ইতোমধ্যে মাছ কেনার জন্য অর্থও বিনিয়োগ করেছেন। এখন সনদ বাতিল হওয়ায় সেই মাছ বাংলাদেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।  মৎস্য দফতরের দেওয়া ১০৩টি এনওসি বাতিলের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুদেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি ভারতীয় অংশে ইলিশ কেনা বাংলাদেশি আমদানিকারকরাও বিপাকে পড়েছেন। বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, ইলিশ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা সরকারি অনুমোদনের ওপর ভিত্তি করেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ভারতীয় অংশে মাছ কেনা, পরিবহণ ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। এখন হঠাৎ করে  সনদ বাতিল হওয়ায় আমদানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁর আরো বক্তব্য, ভারতীয় অংশে যারা ইলিশ কেনার প্রস্তুতি নিয়েছেন বা ইতোমধ্যে মাছ কিনেছেন, আমদানি বন্ধ থাকায় তাদের পণ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।

ভারত থেকে কত ইলিশ গিয়েছে বাংলাদেশে?
বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দিয়েছিল মৎস্য দফতর। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৫৩৫ টন ইলিশ যায়। আমদানি করা ইলিশের পুরোটাই ভারতের গুজরাতের ভারুচ এলাকার।

পুজোয় আসছে বাংলাদেশি ইলিশ?
প্রশ্ন উঠছে, এই যখন অবস্থা, তখন কি পুজোয় আর এপারের বাঙালির পাতে পড়বে পদ্মার ইলিশ। যদিও ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হলেও পুজোর মরশুমকে মাথায় রেখে ভারতের বাজারে ইলিশ রফতানি করতে চাইছেন বাংলাদেশের মৎস্য ব্যবসায়ীরা।  পুজোর সময়ে ভারতে ইলিশ রফতাবি করতে চেয়ে ১৮টি সংগঠন অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের কাছে। বাংলাদেশে ইলিশের সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত জানতে সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রককে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রক। ওই মতামতের ভিত্তিতেই রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত বছর সরকার ভারতে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত রফতানি হয়েছিল মাত্র ১৫০ টন।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement