
ইসলামিক ন্য়াটো বা মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশ যোগ দিলে তাকে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশের বিরোধী দল জামাত-ই-ইসলাম। আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশের বিরোধী দল জামাতের আমির শফিকুর রহমান। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে অন্য কোনও দেশের মাথাব্যাথার কারণ নেই বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের দাবি, শফিকুর আসলে নাম না করে ভারতকেই বার্তা দিলেন।
সম্প্রতি ইসলামিক ন্যাটো বা মক্কা প্যাক্টে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। মিশর ও বাংলাদেশেরও এই চুক্তিতে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না। কারণ, তাদের কাছে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সর্বাগ্রে। তাঁরা বড় কোনও জোট বা শক্তির সঙ্গে থাকতে চায়।
এই ইসলামি ন্যাটোর চুক্তির প্রধান ভিত্তিই হল প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জোটের সদস্য দেশগুলির একে অপরকে সাহায্য। চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের উপর হামলা হলে জোট সদস্য দেশগুলিও সেই হামলাকে নিজেদের উপর আক্রমণ বলে মনে করবে। এবং আক্রমণ করবে হামলাকারী দেশের উপর। উদাহরণস্বরূপ যদি পাকিস্তানের উপর কোনও দেশ আক্রমণ করে বা যুদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে জোট সদস্য হওয়ায় সৌদি আরব এবং তুরস্কও পাকিস্তানের উপর হামলাকারী দেশের বিরুদ্ধে লড়বে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদশও চাইছে এই জোটের অংশ হতে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেক রহমান ও তাঁর সরকার এই জোটের পক্ষে হলেও তাঁদের বিরোধী জামাত সমর্থন করবে কি না তা নিয়ে সংশয় ছিল। তবে তা দূর করতে নিজেই এগিয়ে এসে সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে অবস্থান বুঝিয়ে দিলেন শফিকুর। সুতরাং আর ইসলামিক ন্যাটোতে যোগ ইস্যুতে আর ঘরে বিদ্রোহের মুখে পড়তে হবে না বিএনপি-কে।
আজ বৃহস্পতিবার জামাত-ই-ইসলামির প্রধান তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, 'মক্কা প্যাক্টে যোগদান বাংলাদেশের একান্ত নিজস্ব বিষয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজন এবং স্বার্থে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই।'
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারকে তিনি বা তাঁর দল সমর্থন করবেন সেই বিষয়ে তাঁর বার্তা তো আছেই একই সঙ্গে অন্য দেশগুলিকেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর নিশানা হয়তো ভারতই। বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন মাত্রা তৈরি হতে পারে। ফলে নয়াদিল্লিকে নিরাপত্তা ও কৌশলগত দিক থেকে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হতে পারে।
এই চুক্তিকে ভারত যে গুরুত্ব দিচ্ছে তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ভারত তার নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ১০০ শতাংশ দায়বদ্ধ এবং সেই মতো প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
খোদ বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, 'আমার প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে যা কিছু ঘটে, তা অবশ্যই আমার হিসাব-নিকাশে গণ্য হয়'। অর্থাৎ ভারত এই চুক্তির দিকে নজর রাখছে। আর তা নিবিড়ভাবেই।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের বিরোধী দলনেতার মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ, জামাতের জন্ম ভারত বিরোধিতার জন্য। বাংলাদেশে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালায় তারা। বাংলাদেশে দলটির একাধিক নেতা বিভিন্ন সময়ে ভারতের নীতি ও ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। খোদ শফিকুর রহমানও অতীতে ভারতকে নিয়ে একাধিক কড়া মন্তব্য করেছেন।