Advertisement

Bangladesh Military: বাংলাদেশ কি কট্টর ইসলামিক রাষ্ট্র হওয়ার পথে? নয়া সেনা ব্যাটেলিয়নের নাম ঘিরে চর্চা তুঙ্গে

বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির নয়া ব্যাটেলিয়ানের ৪ কোম্পানির নাম রাখা হল যথাক্রমে, আবু বকর কোম্পানি, উমর কোম্পানি, উসমান কোম্পানি ও আলি কোম্পানি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের গর্বের প্রতীক বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি। ভারতের সহায়তায় পাকিস্তানকে হারিয়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নবাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়ন
Aajtak Bangla
  • ঢাকা,
  • 01 Jul 2026,
  • अपडेटेड 3:51 PM IST
  • নয়া ব্যাটেলিয়ানের নামকরণ মৌলবাদের বার্তা?
  • প্রতিবেশী দেশগুলিতেও বিষয়টি নজর কেড়েছে
  • বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলামি রাজনীতির প্রভাব

একেবারে ইসলামিক কট্টরপন্থী মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ? সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। বাংলাদেশে সেনা বাহিনীর নতুন দ্বিতীয় ব্যাটেলিয়নের ৪ কোম্পানির নাম রাখা হল ইসলামের প্রথম ৪ খলিফার নামে, যাঁকে একত্রে বলা হয়ে থাকে 'খোলাফায়ে রাশেদীন', অর্থাত্‍ সঠিক পথে পরিচালিত খলিফা। 

নয়া ব্যাটেলিয়ানের নামকরণ মৌলবাদের বার্তা?

বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির নয়া ব্যাটেলিয়ানের ৪ কোম্পানির নাম রাখা হল যথাক্রমে, আবু বকর কোম্পানি, উমর কোম্পানি, উসমান কোম্পানি ও আলি কোম্পানি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের গর্বের প্রতীক বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি। ভারতের সহায়তায় পাকিস্তানকে হারিয়ে পূর্ব পাকিস্তান থেকে তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশ। অ্যাকাডেমির প্রথম ব্যাটেলিয়ন থাকছে। সেই ব্যাটেলিয়নের ৫ কোম্পানির নাম জাহাঙ্গির, রউফ, হামিদ, নূর মহম্মদ ও মোস্তাফা। 

প্রতিবেশী দেশগুলিতেও বিষয়টি নজর কেড়েছে

১৮ জুন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।  নতুন ব্যাটালিয়নের নামকরণ ঘিরে বাংলাদেশে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই প্রতিবেশী দেশগুলিতেও বিষয়টি নজর কেড়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বা সরকার এখনও এই নামকরণের পিছনে কোনও বিশেষ ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে সামরিক মহলের একাংশের মতে, এটি কেবল ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের স্মরণে করা হয়ে থাকতে পারে। আবার অন্য একাংশের বিশ্লেষকদের দাবি, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে যে পরিবর্তন এসেছে, তারই প্রতিফলন সেনাবাহিনীতেও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলামি রাজনীতির প্রভাব

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন হয়েছে। সেই সময় থেকেই বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলামি রাজনীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়তে শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটালিয়নের নামকরণকে ঘিরেও নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে। যদিও এই দাবিগুলির পক্ষে সরকারিভাবে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সেনাবাহিনীতে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও দায়িত্ব পালনের উপর জোর দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়নি। সেনাবাহিনীর তরফে বরাবরই শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ব পালনের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে।

Advertisement

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধিকাংশ সদস্য মুসলিম হলেও সেখানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরাও কর্মরত। ফলে বাহিনীর কাঠামো এখনও ধর্মীয় বৈচিত্র্য বজায় রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।  বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ব্যাটালিয়নের নামকরণকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি সামরিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের সঙ্গেও জড়িত। 

Read more!
Advertisement
Advertisement