
Bangladesh Power Crisis: বিদ্যুৎ সঙ্কটে জেরবার বাংলাদেশ। তার মধ্যেই বড় ধাক্কা। ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটে যান্ত্রিক গোলযোগ। ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৮০০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশই বাংলাদেশে সাপ্লাই করা হয়। ফলে ঢাকার বিদ্যুৎ সঙ্কট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট দু’টি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ কেন্দ্রটির মোট ক্ষমতা ১,৬০০ মেগাওয়াট। বৃহস্পতিবার রাতে একটি ইউনিটে বয়লার সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়। এর পরেই সেটি বন্ধ করে দিতে হয়।
এমনিতেই কয়েক সপ্তাহ ধরে কয়লা পরিবহণে সমস্যা চলছে। সেটা কাটিয়ে গোড্ডা কেন্দ্র ফের উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেছিল। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ১,৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছিল। কিন্তু একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে উৎপাদন এক ধাক্কায় ৭৫০ মেগাওয়াটের নীচে নেমে যায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা BPDB সূত্রে খবর, সমস্যা মেরামতির কাজ শুরু করতেই অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তবে ঠিক কত দিনে ইউনিটটি ফের চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এমনিতেই উদ্বেগজনক। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট ক্ষমতা ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু শুক্রবার উৎপাদন হয়েছে আনুমানিক ১৩ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। অথচ দেশের চাহিদা ১৬ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। ফলে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এই সঙ্কটের অন্যতম কারণ গ্যাসের ঘাটতি। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশের বেশি গ্যাসনির্ভর। প্রায় ১২,৪৭২ মেগাওয়াট ক্ষমতা রয়েছে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির। কিন্তু গ্যাসের জোগান কম থাকায় শুক্রবার সেই কেন্দ্রগুলিতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৪,৭০০ থেকে ৫,১০০ মেগাওয়াটের মতো।
এর সঙ্গে রয়েছে কয়লা ও তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যা। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে অনেক কেন্দ্রই পুরো ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঙ্কটে আরও প্রভাব ফেলেছে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকা। ২৮ অগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানে নেপালের জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোর বড় ক্ষতি হয়। তার পর থেকেই বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
ভারত থেকেও বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করে। মোট প্রায় ২,৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে যায় বাংলাদেশে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থায় প্রায় ১,১৬০ মেগাওয়াট এবং আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
ফলে গোড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেক হয়ে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে। ইতিমধ্যেই সেখানে প্রায় ২,৫০০ মেগাওয়াটের ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পরিস্থিতি সামলাতে গত মাসেই বাংলাদেশ সরকার রাত ৮টার মধ্যে শপিং মল, দোকান এবং বাজার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। বিদ্যুৎ বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত। ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর, সিলেট, রাজশাহী এবং খুলনার মতো এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। কোথাও দিনে তিন ঘণ্টা, কোথাও আবার ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ।
দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে আদানির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঙ্কট আরও কতটা বাড়ে, এখন সেটাই দেখার।