
শীঘ্রই পদত্যাগ করতে পারেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহবুদ্দিন। এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে সেই দেশের রাজনৈতিক মহল এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। আসলে শাহবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় দু'বছর বাকি রয়েছে। কিন্তু তিনি তার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
আসলে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপরও সাংবিধানিক পদে বহাল ছিলেন শাহবুদ্দিন। তিনি গত সরকারের আমলেই এই পদে এসেছিলেন।
এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন শাসকদল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। বিএনপি-এর এক শীর্ষ নেতা পিটিআই-কে বলেন, 'খুব সম্ভবত তিনি (শাহবুদ্দিন) খুব শীঘ্রই পদত্যাগ করবেন।' তবে বিষয়টা নিয়ে এর বেশি কিছু খোলসা করতে চাননি তিনি।
সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার জল্পনা
গত দু'দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার আর শাহবুদ্দিনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। দুই দল একে অপরের সঙ্গে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করছে না।
বাংলাদেশের দৈনিক প্রথম আলো একটি উচ্চপদস্থ সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সম্প্রতি শাহবুদ্দিন নাকি শেখ হাসিনার সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। এই খবরেই অসন্তুষ্ট বিএনপিএ-এর সরকার।
অন্যদিকে, দ্য ডেইলি স্টার-কে বিএনপির এক শীর্ষ নেতা জানান, শাহবুদ্দিন এবং শেখ হাসিনার মধ্যে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা টেলিফোনে কথোপকথনই পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়। তাঁর কথায়, বিষয়টি 'আরও জটিল'। বিশেষ করে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা ঘোষণার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার
চলতি মাসের শুরুতে শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। কিন্তু তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশে ফিরলে তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন?
শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতি পদে কে? এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে বাংলাদেশের অন্দরে। আসলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রবীণ যোদ্ধা এবং প্রাক্তন নিম্ন আদালতের বিচারক মহম্মদ শাহবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তারপর নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি।