Advertisement

Bangladesh On Brics: 'ভারতকে নিয়ে এত ভাবতে পারছি না', BRICS-এর কথা শুনে রেগেই গেল বাংলাদেশ

জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনও বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রশ্নটি সঠিক নয়।

তারেক রহমান তারেক রহমান
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 13 Sep 2026,
  • अपडेटेड 9:42 PM IST
  • ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণের বিষয়টিও এদিন ফের উঠে আসে।
  • বাংলাদেশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ না দেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতের নাম শুনেই রেগে গেলেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বলেন, 'আমরা সবসময় নাশতা, লাঞ্চ এবং ডিনারের সময় শুধু ভারত নিয়েই ভাবতে পারি না। আমাদের এর বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে।' তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন পরিপ্রেক্ষিতে শুরু করতে চায়। গত ১৫ বছরের সম্পর্কের ধরন থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।

ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণের বিষয়টিও এদিন ফের উঠে আসে। বাংলাদেশের দাবি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য, তাঁকে ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই প্রোটোকল নিয়েই মূলত ঢাকার আপত্তি।

'ভারত আমাদের আর পাঁচটা প্রতিবেশী দেশের মতো'

জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনও বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রশ্নটি সঠিক নয়। তিনি বলেন, 'ভারত বাংলাদেশের কাছে আর পাঁচটা প্রতিবেশী দেশের মতোই একটি দেশ। যার সঙ্গে ঢাকা ভালো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রাখতে চায়। সবসময় ভারতকে কেন্দ্র করে চিন্তা করার পরিবর্তে বাংলাদেশকে নিজের দেশের বিষয় নিয়েও ভাবতে হবে।' 

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, কোনও দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক আলোচনা প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ অবশ্যই তা করবে। কিন্তু প্রতিটি দেশের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করা সবসময় সম্ভব নয়।

সম্পর্কের 'নতুন পরিপ্রেক্ষিত' চায় ঢাকা

বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিতও রয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি 'নতুন পরিপ্রেক্ষিতে' শুরু করতে চায়।

গত ১৫ বছর ধরে যে ধরনের সম্পর্কের কাঠামো ছিল, বাংলাদেশ তার বাইরে এগোতে চায় বলেও জানান তিনি। এই মন্তব্যকে শেখ হাসিনার আমলের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক থেকে দূরত্ব তৈরির বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, হাসিনার মতো ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চান না তারেক রহমান। সেজন্য তারা এমন আচরণ করছে। হুমায়ুনের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনও বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক সফর করা উচিত।

Advertisement

কেন ব্রিকস সম্মেলনে গেলেন না তারেক রহমান?

২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় মূলত আমন্ত্রণের ধরনকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাঁকে BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান হিসেবে আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই প্রোটোকল নিয়ে আপত্তি জানায় ঢাকা।

বাংলাদেশের যুক্তি ছিল, প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানো হলে তাঁর পক্ষে সম্মেলনে যাওয়া উপযুক্ত হবে না। সেই কারণেই তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেননি বলে ঢাকার তরফে জানানো হয়েছে।

ভারতের বক্তব্য কী?

ঢাকার আপত্তি অবশ্য মেনে নেয়নি ভারত। ভারতের বক্তব্য, তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যথাযথভাবেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সেই আমন্ত্রণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, BIMSTEC-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে। ভারত আরও জানিয়েছিল, তারেক রহমানকে আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সুযোগও রাখা হয়েছিল বলে ভারতের বক্তব্য।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েও সরব ঢাকা

এর পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও বাংলাদেশ ফের তুলছে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে হুমায়ুনকে কাছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তারিক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সেখানেই তিনি বাংলাদেশের বিদেশনীতি এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুনভাবে দেখার কথা জানান।

১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের হওয়া ১০১টি চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের চিফ হুইপের বক্তব্যের প্রসঙ্গও ওঠে সাংবাদিক বৈঠকে। ওই চুক্তিগুলি ফের পরীক্ষা করার কথা বলেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি জানান, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই চুক্তিগুলি পরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

২১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাবেন তারিক রহমান

হুমায়ুন কবির জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রওনা হবেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনা হতে পারে। তবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা এদিন করেননি বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী।

সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের প্রোটোকল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই ঢাকার বার্তা স্পষ্ট- ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু সেই সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় দেখতে চায় বাংলাদেশ।

Read more!
Advertisement
Advertisement