
শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে উত্তাল হয় রাজধানী দিল্লি। SIR নির্বাচন কমিশনের 'অনৈতিক' ভূমিকার বিরুদ্ধে, মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর ডিডিইউ মার্গে হাজির হয়েছিলেন অসংখ্য ছাত্র-যুব। রবিবারও রাজধানী সহ দেশের নানা প্রান্তে চলেছে বিক্ষোভ কর্মসূচি। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার চলমান লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ সোমবার দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা করেছে। আর এই আবহেই প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে CJP প্রতি এল সমর্থন বার্তা। আর সেই বার্তা পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের হাসিনা-বিরোধী ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। দিল্লিতে সিজেপি-র আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে নাহিদ বলছেন, ‘সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।’
X হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করে ভারতে ছাত্রদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম। লিখেছেন, ‘ভারতের যুব ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে আমাদের তরফে সমর্থন। স্বচ্ছ নির্বাচন ও নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা যেভাবে প্রতিবাদে নেমেছেন, তা সাধুবাদযোগ্য। ব্যারিকেড দিয়ে, কোনও কিছুতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তা দমানো যাবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছতার সঙ্গে জবাব দিতে হবে। জেনে রাখুন আপনারা একা নন। সীমান্তের বেড়া ভেঙে আমরাও সঙ্গে আছি।’ দিল্লিতে আটক ছাত্রনেতাদের সকলকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিও তোলেন নাহিদ।
শেখ হাসিনাকে গদিচ্যুত করেছিল যে আন্দোলন, সেই প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ লিখেছেন, 'এই লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আমাদেরও রয়েছে। কারণ, আমরা নিজেরাও এমন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আমাদের ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছিল। সেই আন্দোলন দমন করতে রাষ্ট্রের তরফে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে রাষ্ট্রসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সেই গণঅভ্যুত্থান এবং তা দমন করার সময় সর্বোচ্চ ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বাংলাদেশের সেই আন্দোলনের সময় ভারতের ছাত্রছাত্রী, লেখক এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বরের মানুষজন যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আমরা তাঁদের সংহতি ও সমর্থন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।'
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনীতিতে নাহিদ ইসলাম পরিচিত মুখ। বছর দুই আগে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন নাহিদ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে শামিল হয়েছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতেও উঠে আসেন। তাঁর মুখে এর আগেও একাধিকবার ভারত-বিরোধী মন্তব্য শোনা গিয়েছে। এমনকী শিলিগুড়ি সীমান্তে ‘চিকেনস নেক’ নাকি বাংলাদেশ কেড়ে নেবে বলেও হুমকি দিয়েছিলেন নাহিদ। বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচনে লড়ে অন্যতম বিরোধী নেতা হয়ে উঠেছেন। এবার তিনি ভারতের ছাত্রদের আন্দোলনকে বিশেষত ‘ককরোচ’দের জোরাল সমর্থন জানালেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মত, এতদিন CJP-কে শক্তি জোগানোর নেপথ্যে যে বিদেশি-যোগের অভিযোগ উঠছিল, নাহিদের বক্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হল। CJP-র আন্দোলনের প্রতি নাহিদের সমর্থনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের দাবি, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের নেতার মন্তব্য অনভিপ্রেত। সিজেপির আন্দোলনের পিছনে বিদেশি মদত রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, নাহিদের পোস্টের পর সেই বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তাঁর সমর্থনবার্তা থেকেই আন্দোলনের সঙ্গে কোনও বিদেশি শক্তির যোগ রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে নাহিদের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও বিদেশি যোগের অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত নয়।