Advertisement

Dhaka Temple Beef Khichdi: ঢাকার মন্দিরের কাছে বিফ খিচুড়ি রান্না ঘিরে বিতর্ক, মহাষষ্ঠীতে গরু কাটার তোড়জোড়

ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমশ বড় আকার নিয়েছে। এবার মহাষষ্ঠীর দিন গরু জবাইয়ের পরিকল্পনা পড়ুয়াদের।

ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরু খিচুড়িঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরু খিচুড়ি
Aajtak Bangla
  • ঢাকা ,
  • 16 Oct 2026,
  • अपडेटेड 4:40 PM IST
  • মন্দিরের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্না
  • বিতর্ক ক্রমশ বড় আকার নিয়েছে বাংলাদেশে
  • মহাষষ্ঠীর দিন গরু জবাইয়ের পরিকল্পনা পড়ুয়াদের

ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক ক্রমশ বড় আকার নিয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন এবং ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার নিয়ে তৈরি হয়েছে সংঘাত। দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিন, শুক্রবার, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গরু কেটে ভোজের আয়োজন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন ইসলামিক ইতিহাস বিভাগের একদল পড়ুয়া। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে ক্যাম্পাসে পশু জবাই না করার নির্দেশিকা জারি করলেও পরে সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেয়। বিবিসি বাংলা এবং বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'দ্য ডেইলি স্টার'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর, সোমবার এই বিতর্কের সূত্রপাত। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংসের খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। ওই জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরের কাছেই।

গরুর মাংস রান্না হচ্ছে জানতে পেরে হিন্দু পড়ুয়ারা সেখানে আপত্তি জানান। তাঁদের বক্তব্য, মন্দিরের এত কাছে গরুর মাংস রান্নার আয়োজন তাঁদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। মন্দিরের কাছাকাছি এই আয়োজন হওয়ায় তাঁরা অসন্তুষ্ট হন এবং অন্য জায়গায় রান্নার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন অধ্যাপক মহম্মদ আজম খান। তিনি একজন সহকারী প্রক্টরকে পাঠান। পরে আয়োজকরা মন্দির থেকে আরও দূরে গিয়ে রান্নার ব্যবস্থা করেন। 

পশু জবাই বন্ধের নির্দেশিকা জারি, পরে প্রত্যাহার
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পশু জবাই করা থেকে পড়ুয়া, শিক্ষক এবং কর্মীদের বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল ওই বিজ্ঞপ্তিতে। বাংলাদেশের ২০১১ সালের পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত কসাইখানার বাইরে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে নতুন করে আপত্তি ওঠে। কিছু পড়ুয়ার বক্তব্য, গরুর মাংসের ভোজের আয়োজনের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। অধ্যাপক আজম খান বিবিসি বাংলাকে জানান, ক্যাম্পাসে পশু জবাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানতে পেরেই প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে যাতে কোনও উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

Advertisement

তবে একই দিন পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। সেখানে জানানো হয়, ১২ অক্টোবরের রান্নার আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি প্রক্টরের হস্তক্ষেপ এবং দুই পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে মিটে গিয়েছে। দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের অধিকার পড়ুয়াদের রয়েছে। পশু জবাই সংক্রান্ত অনুষ্ঠানও তার আওতার বাইরে নয়। তবে এক পক্ষের কোনও কাজের কারণে অন্য পক্ষের কার্যকলাপ যাতে বাধাপ্রাপ্ত না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়।

প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীতে গরু কাটার আয়োজন
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় বিজ্ঞপ্তিতেও অবশ্য পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। প্রশাসনের প্রথম বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ক্যাম্পাসে গরুর মাংসের ভোজের আয়োজনের ঘোষণা করেছে একদল পড়ুয়া। দুর্গাপুজোর মহাষষ্ঠীর দিনই এই আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মন্দিরের পাশে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের কাছের একটি খোলা মাঠে এই অনুষ্ঠান হতে পারে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই আয়োজনের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করেছেন পড়ুয়ারা এবং একটি গরুও কিনেছেন। বাংলাদেশের কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী দল খেলাফত মজলিসের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের তরফেও আরও একটি গরু দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে বলে খবর। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার চালানো হয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য ৭০ টাকা দিয়ে নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম আরিফ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আজম খান জানিয়েছেন, পশু জবাই করা হলে তা যেন সংযতভাবে করা হয়, যাতে ধর্মীয় ভাবাবেগকে কেন্দ্র করে ফের কোনও বিতর্ক তৈরি না হয়।

অন্যদিকে, জয় সাহাও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের অন্য কোনও জায়গায় গরু জবাই করা হলে মন্দির পরিচালন কমিটির আপত্তি নেই। তবে তা মন্দিরের সামনে করা যাবে না এবং মন্দিরের কার্যকলাপে কোনওভাবে বাধা দেওয়া যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে পড়ুয়াদের একে অপরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে কোনও অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে অন্যদের ধর্মীয় কার্যকলাপ বা স্বাভাবিক কাজকর্ম যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement