Advertisement

Bangladesh Power Crisis: বাংলাদেশে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং নাকি ভারতের ষড়যন্ত্র! কীভাবে? BNP-র শীর্ষনেতার হাস্যকর যুক্তি

বাংলাদেশে ২৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্‍ ঘাটতি চলছে, ফলে দেশের একটি বড় অংশই দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে কাটায়। নিজেদের দেশের সরকারের অক্ষমতা ঢাকতে ভারতকে ঢাল বানাতে চেষ্টা করছে বিএনপি। বিএনপি নেতা রিজভি এমনিতেই তীব্র ভারত বিদ্বেষী।

রাহুল কবীর রিজভি, বিএনপি সাধারণ সম্পাদক রাহুল কবীর রিজভি, বিএনপি সাধারণ সম্পাদক
Aajtak Bangla
  • ঢাকা,
  • 17 Sep 2026,
  • अपडेटेड 9:17 AM IST
  • ১০ সেপ্টেম্বর গোড্ডা তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রে বয়লার বিকল হয়েছিল
  • নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করতে ভারতকে ঢাল করার স্ট্র্যাটেজি
  • রিজভির এই ভারত বিদ্বেষ নতুন নয়

চরম বিদ্যুত্‍ সঙ্কটে ভুগছে বাংলাদেশ। দিনের বেশির ভাগ সময়ই লোডশেডিং চলছে। BNP সরকারের মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। এহেন পরিস্থিতিতে নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করতে ভারতের ঘাড়ে দায় ঠেলে বাঁচতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার। তারই নির্যাস হল, বিএনপি নেতা ও দলের কার্যনির্বাহী সাধারণ সম্পাদক রাহুল কবীর রিজভির আশ্চর্য দাবি হল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু BRICS সম্মেলনে ভারতে যাননি, সেই রাগেই নাকি ঝাড়খণ্ডে আদানি গোষ্ঠীর তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্র বন্ধ করেছে ভারত। যাতে বাংলাদেশে বিদ্যুত্‍ সঙ্কট হয়। 

১০ সেপ্টেম্বর গোড্ডা তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রে বয়লার বিকল হয়েছিল

'আদানি পাওয়ার'-এর একটি ইউনিট রয়েছে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডাতে। একটি বয়লার বিকল হওয়ায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্র বন্ধ হয়েছিল। ওই কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশেও বিদ্যুত্‍ যায়। ফলে চরম বিদ্যুত্‍ সঙ্কটে পড়েছে বাংলাদেশ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপরে। ১৩ সেপ্টেম্বর ফের ওই তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্র চালু হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এর সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনের তারেকের না থাকার যোগ কোথা থেকে পেলেন রিজভি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির খোরাকও হয়ে উঠেছেন বিএনপি-র ওই শীর্ষস্থানীয় নেতা। 

নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করতে ভারতকে ঢাল করার স্ট্র্যাটেজি

বাংলাদেশে ২৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্‍ ঘাটতি চলছে, ফলে দেশের একটি বড় অংশই দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে কাটায়। নিজেদের দেশের সরকারের অক্ষমতা ঢাকতে ভারতকে ঢাল বানাতে চেষ্টা করছে বিএনপি। বিএনপি নেতা রিজভি এমনিতেই তীব্র ভারত বিদ্বেষী। এখন তিনি দাবি করছেন, এটা নাকি ভারতের ষড়যন্ত্র। ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তাঁর বক্তব্য, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ভারতের প্ররোচনায় ক্ষমতাচ্যুত ‘স্বৈরাচারী খুনি’ শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র করছেন, আয়োজকদের এমন অভিযোগের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

Advertisement

রিজভির এই ভারত বিদ্বেষ নতুন নয়

বিএনপি-র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা রিজভি। পার্টির চিফ এগজিকিউটিভ অফিসারও তিনি। তারেক রহমানের পরেই রিজভির স্থান। তাই রিজভির এহেন বক্তব্য যে বিএনপি-রই বক্তব্য, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদ একদা রিজভিই সামলাতেন। বস্তুত, রিজভির এই ভারত বিদ্বেষ নতুন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর যখন বাংলাদেশজুড়ে ভারতীয় পণ্য বয়কটের প্রোপাগান্ডা চলছিল, তখন এই রিজভিই তাঁর স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি জনসমক্ষে জ্বালিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্ত্রীর ভারতীয় শাড়ি জ্বালিয়েছিলেন রিজভি- ফাইল ছবি

রিজভির এখন বলছেন, 'তারেক রহমান যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি, আর পরের দিনই সেটি বন্ধ হয়ে গেল। এর পিছনে কারণটা কী ছিল? বিষয়টি বুঝতে কি বার পরীক্ষা পাস করতে হয়? কোনও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করতে হয়? কী ঘটেছে, তা আমরা বুঝতে পারছি।'

ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা তাপবিদ্যুত্‍ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটিতে বয়লার বিকল হওয়ায় বন্ধ হয়েছিল। ফলে বাংলাদেশে চাহিদা মতো ১৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বদলে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্‍ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু দুদিনের মধ্যে তা দ্রুততার সঙ্গে ঠিক করা দেওয়া হয়। রিজভির আরও দাবি, বাংলাদেশে বিদ্যুত্‍ সঙ্কটের জন্যই এই সব করা হচ্ছে। 

বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলা হয়, 'মহেশখালীর এফএসআরইউতে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এলএনজি টার্মিনাল বিকল হওয়ার ঘটনায় মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর পিছনে কি কোনও রহস্য রয়েছে? কোথাও কি অন্তর্ঘাত চলছে? এখন একের পর এক প্রযুক্তিগত ত্রুটি কেন দেখা দিচ্ছে?'

গোটা বিষয়ের নির্যাস হল, বাংলাদেশে বিদ্যুত্‍ সঙ্কটের জেরে তারেক রহমান সরকারের উপরে মানুষ ক্ষিপ্ত। নিজেরা বাঁচতে এখন ভারতের দিকে ওই ক্ষোভের তির ঘুরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে বিএনপি সরকার। 

Read more!
Advertisement
Advertisement