Advertisement

Broiler Chicken Party: ভারতের CJP-র মতো বাংলাদেশে এ বার 'ব্রয়লার চিকেন পার্টি', এদের আবার কী দাবি?

বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের একটি বিতর্কিত মন্তব্য এবং বর্ষার দুর্যোগের মধ্যেও জোর করে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সেদেশের ছাত্র সমাজ। মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মাধ্যমেই এই নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।

 বাংলাদেশে আলোড়ন তুলেছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ বাংলাদেশে আলোড়ন তুলেছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’
Aajtak Bangla
  • ঢাকা,
  • 27 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:36 PM IST

উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য আদায়। সেই উদ্দেশ্য সফল ককরোচ জনতা পার্টি। সংক্ষেপে সিজেপি। এ যেন অভিষেক ম্যাচেই সেঞ্চুরি! জন্ম নেওয়ার ৭১ দিনের মধ্যেই প্রথম আন্দোলন ‘সফল’ করলেন ‘আরশোলা’রা।  সিজেপির জন্ম ১৬ মে, ২০২৬। ঠিক তার আগের দিন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে দেশজোড়া বিতর্ক তৈরি হয়। একটি মামলার প্রেক্ষিতে তথাকথিত সমাজসৈনিক এবং বেকারদের ‘আরশোলা’ এবং ‘সমাজের পরজীবী’ বলে সমালোচনা করেন তিনি। তারই ‘ফসল’ সমাজমাধ্যমে ‘আরশোলা’দের উপস্থিতি। প্রথমে নিছক ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হত ওই অ্যাকাউন্ট থেকে। ফলোয়ার্সের সকলেই প্রায় জেন জি। পরে প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা হয়েছে। কিন্তু ‘আরশোলা’রা সমাজমাধ্যম থেকে বেরিয়ে তত দিনে রাস্তায় নেমে পড়েছেন। ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের ডাক দেন তাঁরা। বাকিটা ইতিহাস। বাংলাদেশেও এবার জন্ম নিল এক অভিনব প্রতীকী দল—‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ (Broiler Chicken Party)। 

বাংলাদেশে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলন
বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের একটি বিতর্কিত মন্তব্য এবং বর্ষার দুর্যোগের মধ্যেও জোর করে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সেদেশের ছাত্র সমাজ। মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মাধ্যমেই এই নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।  ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায়  ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে ‘ফার্মের মুরগি’ বলে সম্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী। এই মন্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। একদিকে যখন লাগাতার বর্ষণে বাংলাদেশের বহু এলাকা জলমগ্ন, তখন এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সরব হন পরীক্ষার্থীরা। মন্ত্রীর সেই অপমানজনক মন্তব্যের জবাব দিতে এবং আন্দোলনকে আরও সংগঠিত রূপ দিতে গত ১৪ জুলাই ফেসবুকে ‘Broiler Chicken Party’ নামে একটি পেজ খোলে জেন-জি প্রজন্ম। পেজটিতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, ব্যঙ্গচিত্র ও ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ফেসবুকে ৩৩ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র ফলোয়ার সংখ্যা। 

Advertisement

কীভাবে জন্ম ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’র?
গত ১৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘Broiler Chicken Party’ নামে একটি পেজ খোলেন বাংলাদেশের জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের কয়েকজন শিক্ষার্থী। আমরা অপমানিত নই, আমরা জাগ্রত স্লোগানে খোলা এই পেজটি ইতিমধ্যে নেটিজেনদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন তুলেছে।  ব্যক্তিগত ব্লগ ক্যাটাগরিতে পেজটি খোলা হয়েছে। খুব দ্রুতই এর ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ছে। 

কেন এমন নাম?
ঢাকার সিটি কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষামন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে মেয়ের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করেন। সেই কথোপকথন অন্য একটি মোবাইল ফোনে রেকর্ড করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে পরীক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী  এহছানুল হক মিলনকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসে।’ ফোনালাপের অডিওটি ১৩ জুলাই রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ‘ফার্মের মুরগি’ শব্দবন্ধটি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে মন্তব্যটি অবমাননাকর বলে মনে হয়। ফলে ১৪ জুলাই সকাল থেকেই ঢাকার সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, উত্তরাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মুখে শোনা যায়, ‘আমি কে, তুমি কে, ফার্মের মুরগি’ স্লোগান। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী  এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। পরে চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, বরিশালসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেও একই দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের খবর পাওয়া যায়।

কার মদত রয়েছে?
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিকে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করে ন্যাশনাল টিচার্স ফোরাম ফর টিচার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ (এনএফটিই)। রবিবার (২৬ জুলাই) ফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষক নেতারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারের ভেতরকার সুযোগসন্ধানী একটি মহল, গত সরকারের গুপ্তবাহিনী এবং মূলত যারা ‘অটো পাস’ চায়, তারাই এ ধরনের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। পেজটি আত্মপ্রকাশের পর অনেকে এর সঙ্গে আওয়ামী লিগের সম্পৃক্ততা খুঁজছিলেন। আবার অনেক পলাতক আওয়ামী নেতাকর্মীকে উচ্ছ্বসিত হতেও দেখা যায়। এই প্রেক্ষিতে ওই পেজ থেকে  আওয়ামী লিগকে উদ্দেশ্য করে কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়।

পাশে পেল কাদের?
পেজটি শেয়ার করে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লাবীব মুহান্নাদ একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘বর্তমান প্রজন্ম অন্যায় দেখলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।’ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মনসুর আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘Some students opened a Broiler Chicken Party in response to the Education Minister calling the generation as Broiler Chicken.’ সাংবাদিক জামিল আক্তার লিখেছেন, ‘ব্রয়লার পার্টি এসে গেছে। ককরোচ পার্টির মতো কি এটা জমবে?’ একইভাবে জুয়াইয়া নওশীন লিখেছেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি থেকে উদ্বুদ্ধ ব্রয়লার চিকেন পার্টি। কী এক জেনারেশনের পাল্লায় যে পড়ছে মুরুব্বিরা, এখনো টের পাচ্ছে না!’ মো. শাহরিয়ার আহমেদ লিখেছেন, ‘৯০ দশের নকল বাবার ধারণাই নাই, কোন জেনারেশনকে উনি লিড দিতে এসেছেন। এরা আদিম যুগের জেনারেশন না যে ভেবে চিন্তে ডিসিশন নেবে। এরা আগে অ্যাকশন, পরে ডিসিশন। কাম অন বয়েজ, ফুল সাপোর্ট। #স্টেপডাউনমিলন।’ ব্রয়লার চিকেন পার্টি শেষপর্যন্ত সাময়িক অনলাইন প্রতিক্রিয়াই থাকবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে ডিজিটাল রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু মত প্রকাশের জায়গা নয়, নতুন প্রতীক, নতুন স্লোগান এবং নতুন রাজনৈতিক ভাষা তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

Advertisement

Read more!
Advertisement
Advertisement