
বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর মহড়ার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মৃত ২ বাংলাদেশি জওয়ান। গুরুতর আহত হয়েছেন এক সেনা আধিকারিকও। আজ বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারি ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে একটি ট্যাঙ্কে বিস্ফোরণ হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর বা ISPR জানিয়েছে, ফায়ারিং মহড়া চলাকালীন ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ট্যাঙ্কের ভিতরেই ছিলেন দুই সেনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ট্যাঙ্কটির ভিতরে দুই সেনা সদস্য ছিলেন। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। একজন বাংলাদেশ সেনা আধিকারিকও এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আহত আধিকারিককে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা হবে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (CMH)-এ।
চিনা উৎসের Type 59 ট্যাঙ্ক
বাংলাদেশের চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর মহড়া চলাকালে চিন থেকে আনা একটি টাইপ ৫৯ ট্যাঙ্কে এই বিস্ফোরণ হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ট্যাঙ্ক ব্যবহার করে আসছে। বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ধরা পড়েছে ভিডিয়োয়। তবে ঠিক কী কারণে ট্যাঙ্কটিতে বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
কীভাবে ঘটল বিস্ফোরণ?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। বিস্ফোরণের পিছনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, গোলাবারুদের কোনও সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণ ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ISPR জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের পরই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।
ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আহত আধিকারিককে
দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত সেনা আধিকারিককে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হেলিকপ্টারে ঢাকার CMH-এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেনা সূত্রে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে নিরাপত্তা এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে ব্যবহৃত ট্যাঙ্কে এমন বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল, এখন সেটাই মূল প্রশ্ন। দুর্ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ISPR-এর তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও বিস্ফোরণের নির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। দুই সেনা জওয়ানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একইসঙ্গে আহত আধিকারিকের দ্রুত সুস্থতার জন্য চিকিৎসা চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই দুর্ঘটনার পিছনে প্রকৃত কারণ এবং ট্যাঙ্কটির কী ধরনের প্রযুক্তিগত বা অন্য সমস্যা হয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হবে।