
মায়ের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। বাংলাদেশের এই হিন্দু সন্ন্যাসীর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। মা-কে শেষ দেখা দেখতে না পাওয়ার সেই করুন চিত্র দাগ কেটে সকলের মনে।
মৃত্যুশয্য়ায় থাকা মা, ছেলেকে একবারের জন্য শেষ দেখা দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। জেলে বসেই চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে শুনতে হয়েছে মায়ের মৃত্যুসংবাদ। তারপর শেষকৃত্যের জন্য মাত্র ৫ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি মিলেছে।
অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানি ধর। বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। ছেলের সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছেপ্রকাশও করেছিলেন তিনি। তবে মা অসুস্থ থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য ছেলের জেলমুক্তির অনুমতি দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। এরপর মৃত্যুসংবাদ আসে। চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি কমিশনার মহম্মদ জহিদুল ইসলাম মিঞা বৃহস্পতিবার দুপুরে ২টো ৩০ মিনিট নাগাদ চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর প্যারোলের নির্দেশ দেন। প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়েই হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন এই হিন্দু সন্ন্যাসী।
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র অনেকদিন ধরেই জেলবন্দি একাধিক ধারায় মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গুরুতর অনেক অভিযোগও উঠেছে। চট্টগ্রামে হাটহাজারিতে জমিদখল, ভীতিপ্রদর্শন, মারধরের অভিযোগও ছিল। তবে সেই মামলায় চলতি বছর এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে একটি মামলায় জামিন পান সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র। তবে জামিন পেলেও জেলেই থাকতে হয় চিন্ময়কৃষ্ণকে। কারণ আরও একাধিক মামলা এখনও বিচারাধীন।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য ডেলি স্টার সূত্রে খবর, চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি কমিশনার মহম্মদ জহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মায়ের প্রয়াণের পর তাঁর ভাই একটি আবেদন জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই ৫ ঘণ্টার প্যারলে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে।
বাংলাদেশের চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে শ্রী শ্রী পুণ্ডরীক্ষ ধাম মন্দিরে সম্পন্ন হয়েছে চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানি ধরের শেষকৃত্য। প্যারোলে মুক্তির পর সেখানেই নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসীকে।