
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের পর থেকেই দেশ ছাড়া বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার তিনি জানালেন, বাংলাদেশে ফিরলে তাঁর গ্রেফতার ও মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। তারপরও ডিসেম্বরে তিনি নিজের দেশে ফিরবেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সেন্টার ফর ইউএস-বাংলাদেশ রিলেশনস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন হাসিনা। ভার্চুয়ালি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ইন্ডিয়া টুডের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরব।'
তাঁর বক্তব্য, 'আমি ভয় পাই না। আমি জানি, ওরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে। গ্রেফতার করতে পারে। অত্যাচারও করতে পারে।'
আসলে বাংলাদেশের উত্তাল ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন হাসিনা। তারপর থেকে ভারতেই রয়েছেন আওয়ামী লিগের নেত্রী।
এর আগেও তিনি দেশে ফেরার কথা বলেছেন। গত জুলাই মাসের সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার প্ল্যানের কথা জানিয়েছিলেন। ফের একবার তাঁর মুখে একই কথা শোনা গেল।
ট্রাম্পকে ধন্যবাদ হাসিনার
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাসিনা। ইউএসএআইডি-র অর্থসাহায্য বন্ধ করায় তিনি আনন্দিত। তাঁর দাবি, এর ফলে ভুল লোকের হাতে টাকা পৌঁছনো বন্ধ হবে।
হাসিনা বলেন, 'তাঁর জন্যই অর্থ আর ভুল লোকের হাতে পৌঁছচ্ছে না।'
এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তিনি। পাশাপাশি দেশে ব্যাপক বেকারত্ব, মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তোলাবাজির অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
হাসিনা বলেন, 'এটি একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার।' এরপরই বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
অডিও বার্তা দিয়েছিলেন
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে দিল্লি থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে অডিও বার্তা দিয়েছিলেন হাসিনা। তখনও বাংলাদেশে ফেরার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।
সেই সময় তিনি বলেছিলেন, 'আমার যেই পরিণতিই অপেক্ষা করুক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরে যাব। আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্ট পাচ্ছেন, তখন আমি তাঁদের থেকে দূরে থাকতে পারি না।'
দেশে ফিরলে তাঁকে আটক করা হতে পারে, এমনকী জেলেও পাঠানো হতে পারে বলে মনে করেছিলেন হাসিনা। তবে তাঁর কথায়, 'দেশবাসীর প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় ঠিক করতে পারে না।'
মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যর্পণের আবেদন
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের জন্য শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেই মতো ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
তবে হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিচারপ্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের আমল থেকেই হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়ে আসছে ঢাকা। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারও সেই আবেদন করছে।
এদিকে নয়াদিল্লির দাবি, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের আবেদন বিচারবিভাগীয় এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।