
বঙ্গ রাজনীতিতে বড় পালাবদল ঘটেছে। ২০৭টি আসন জিতে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই নিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশেও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে প্রায় দেড় দশক পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় এবং প্রথমবারের মতো বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে কৌতূহল আছে প্রতিবেশী দেশটির অনেকের মধ্যে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর জল বণ্টন, সীমান্ত ইস্যু ও পুশ-ইন কিংবা পুশ ব্যাক ইস্যুর মতো দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলোতে এখন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের ভূমিকা কেমন হবে- তা নিয়েও আলোচনা, কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন দলের মধ্যে।
বাংলাদেশের কোনও কোনও দল বলছে, নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন যেগুলো তাদের মতে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় যে-ই আসুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশ-ইনের কোনও ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান। বিদেশমন্ত্রী বলেন, তিস্তা চুক্তি পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের আমলে হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেবে ভারত।
পাশাপাশি ড.খলিলুর রহমান জানান, জুন মাসে চিন বা ভারত সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চিন সফরে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, আমি চিন যাচ্ছি। সেখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য বিদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী জুনে ভারত বা চিন সফরে যেতে পারেন। সূত্রের খবর, চিনা সরকারের আমন্ত্রণে খলিলুর রহমান মঙ্গলবার চিন সফরে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (০৭ মে) পর্যন্ত তিনি বেজিংয়ে অবস্থান থাকবেন। সফরকালে তিনি চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।