
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরানো হবে। জানালেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সম্প্রতি হাসিনা মন্তব্য করেছিলেন, মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হলেও তিনি দেশে ফিরতে চান। সেই মন্তব্যের পরই এই প্রতিক্রিয়া দেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, 'আমরা তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত আনতে চাই। শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলে আইনি দিক থেকে কোনও বাধা আছে বলে জানা নেই।'
২০২৪ সালের অগাস্টে মাসে ছাত্র আন্দোলনের জেরে আওয়ামি লিগ সরকারের পতন হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে এসে থাকেন শুরু করেন হাসিনা। তৎকালীন মহম্মদ ইউনূসের সরকার, মুজিবরকন্য়ার দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এমনকী ভোটে দাঁড়ানোর অধিকারও কেড়ে নেয়।
শুধু তাই নয়, হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একের পর এক মামলা চলতে থাকে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওই ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যদিও তাঁর সমর্থকরা এই বিচারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। এদিকে ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারও অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের একদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে তাঁকে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
ঢাকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানোর সময়সীমাও ইতিমধ্যেই পেরিয়ে গিয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি মাথা উঁচু করে খুব তাড়াতাড়িই বাংলাদেশে ফিরতে চান। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তোলেন এবং দেশে বাড়তে থাকা ভারত-বিরোধী মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নির্বাসন থেকেই আওয়ামি লীগের নেতৃত্ব চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।