Advertisement

Sheikh Hasina Extradition : হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ভারত? ঢাকায় বসেই তারেককে মোক্ষম বার্তা হাইকমিশনার দীনেশের

ত্রিবেদী স্পষ্ট করে বলেন, হাসিনাকে ভারতীয় বায়ুসেনা বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে তীব্র আন্দোলনের মধ্যে তিনি দেশ ছাড়ার পর একটি বাংলাদেশি সামরিক বিমানে ভারতে পৌঁছন। সেই সময় হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

শেখ হাসিনা শেখ হাসিনা
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও ঢাকা ,
  • 04 Oct 2026,
  • अपडेटेड 2:31 PM IST
  • এই পরিস্থিতিতে ত্রিবেদীর বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
  • কারণ এতদিন হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছে ভারতীয় পক্ষ।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেবে ভারত? নিলেও কবে? এই নিয়ে জলঘোলা বিস্তর। তার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিব ভারত সরকার। ঢাকা থেকেই ভারতের নিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী জানালেন, হাসিনা বাংলাদেশে পাঠানোর (প্রত্যর্পণের) কোনও নির্দিষ্ট সময়সীনা নেই। তাঁর বক্তব্য, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আদালতও বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত। ফলে কবে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানো হবে, তার নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।

শনিবার ঢাকায় বে অফ বেঙ্গল কনভারসেশনের আলোচনাসভায় হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন ত্রিবেদী। সেখানেই তিনি বলেন, ভারত সরকার বারবার জানিয়েছে, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া আইনসম্মত এবং সুসংগঠিত। সেই আইনি প্রক্রিয়াই এখন চলছে।

ত্রিবেদীর কথায়, 'কেউ হাসিনাকে ফেরানোর নির্দিষ্ট সময়সীমা বলতে পারবেন না। কারণ বিষয়টি শুধু সরকারের সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে আদালতও জড়িত।'

হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া নিয়েও এদিন মুখ খোলেন ত্রিবেদী। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত আকস্মিক। সেই সময় ভারতও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল না।

ত্রিবেদী স্পষ্ট করে বলেন, হাসিনাকে ভারতীয় বায়ুসেনা বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে তীব্র আন্দোলনের মধ্যে তিনি দেশ ছাড়ার পর একটি বাংলাদেশি সামরিক বিমানে ভারতে পৌঁছন। সেই সময় হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

ত্রিবেদীর বক্তব্য, 'সেই সময় হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমাদের হাতে কার্যত খুব বেশি বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পরিস্থিতির বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল।'

ভারত যদি সেই সময় হাসিনাকে নিয়ে আসা বিমানকে অবতরণের অনুমতি না দিত, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, 'আমাদের সামনে আর কী বিকল্প ছিল?'

২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দেশ ছাড়েন হাসিনা। ৫ অগাস্ট তিনি ভারতে আসেন। এরপর থেকেই তাঁকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। হাসিনার প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদনও করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য বারবার জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে ত্রিবেদীর বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এতদিন হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছে ভারতীয় পক্ষ। এবার ঢাকায় দাঁড়িয়ে ভারতের হাইকমিশনার জানিয়ে দিলেন, প্রক্রিয়া চলছে ঠিকই, কিন্তু তার শেষ কোথায় বা কবে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানো হবে, তার কোনও সময়সীমা এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।

অর্থাৎ, ঢাকার দাবি থাকলেও আপাতত হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে কোনও ডেডলাইন দিচ্ছে না নয়াদিল্লি। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। আর সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসিনাকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।

Read more!
Advertisement
Advertisement