Advertisement

দ্বিতীয়বার দিল্লির আমন্ত্রণ মোদীর, এবারও তারেক 'না' বললে কী হবে?

এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’বার তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথম আমন্ত্রণটি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জানিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

Aajtak Bangla
  • দিল্লি ও ঢাকা ,
  • 12 Aug 2026,
  • अपडेटेड 4:05 PM IST
  • ফের তারেককে আমন্ত্রণ ভারতের
  • তিনি কি এবারও আসবেন না ভারতে?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফের নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। দেশের রাজধানীতে আয়োজিত BRICS Summit-এ যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, তারেক রহমান সেই সফর এড়িয়ে যেতে পারেন।

ভারতের এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে তা রাজনৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে বড় ভুল হবে বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও Carnegie Asia-র নন-রেসিডেন্ট স্কলার অবিনাশ পালিওয়াল।

এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’বার তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথম আমন্ত্রণটি ব্যক্তিগতভাবে ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জানিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

বুধবার একটি পোস্টে পালিওয়াল বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আরও অবনতি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ, আন্তরিক এবং অত্যন্ত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ পালিওয়ালের কথায়, ভারতের দ্বিতীয় আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিচারের ক্ষেত্রে বড় ভুল হবে।

রবিবার ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় হাইকমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা তারেক রহমানকে জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার ভারতের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

SOAS University of London-এর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহযোগী অধ্যাপক পালিওয়াল এর আগেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে মত প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে,'বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলির রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন করে ভাবা এবং পারস্পরিক সমঝোতার জায়গা তৈরি করা জরুরি।' 

১৫ জুলাই Hindustan Times-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিজয়ী সবকিছু দখল করবে—এই পদ্ধতি অবশ্যম্ভাবী নয়। তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের প্রয়োজন স্বল্পমেয়াদি সমঝোতা মেনে নেওয়ার সাহস।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন পালিওয়াল। তাঁর মতে, সেই বিচার শুধু হাসিনাকে দায়বদ্ধ করবে না, একইসঙ্গে তাঁকে বাংলাদেশের মানুষের মনোভাবের বাস্তবতাও বুঝতে সাহায্য করবে।

Advertisement

পালিওয়ালের মতে, ঢাকার সামনে দুটি পথ। হাসিনাকে ফের বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতার কারণ হতে দেওয়া, অথবা তাঁর প্রত্যাবর্তনকে জাতীয় নিরাময় ও পুনর্মিলনের সূচনা হিসেবে ব্যবহার করা।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেছিলেন, আওয়ামি লিগকে শুধু বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে দূরে রাখলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর মতে, বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে আওয়ামি লিগকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। বরং কীভাবে তাদের প্রত্যাবর্তনকে ঝুঁকির বদলে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, সেটাই মূল প্রশ্ন।

ভারত ফের আমন্ত্রণ জানাল তারেক রহমানকে

বর্তমানে BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা তারেক রহমানকে ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি বিশেষ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। ১৪ জুলাই কূটনৈতিক মাধ্যমে সেই আমন্ত্রণ পাঠানো হয়। তবে তারেক রহমান সেই সফরে যাবেন কি না, এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা।

বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খালিলুর রহমান সোমবার জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে তা তিনি বলতে পারছেন না। তিনি আরও বলেন, BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উদ্দেশ করেই এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমানকে নয়।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রায় চার মাস পর গত জুনে চিন সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তবে এখনও ভারত সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি তিনি।

হাসিনার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপড়েন

২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এরপর মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন। তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। তবে এখনও পর্যন্ত সম্পর্কের বরফ গলার স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত নেই। এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার লাগাতার দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

গত ৫ অগাস্ট, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বাংলাদেশে ফেরার কথা জানান। তবে কবে ফিরবেন, সেই তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

হাসিনার ওই সাংবাদিক সম্মেলনের পর কড়া বিবৃতি দেয় বাংলাদেশ সরকার। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারতের কোনও ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে বাংলাদেশ সরকার সম্পর্কে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তার কোনওটিকেই ভারত সমর্থন করে না।

Read more!
Advertisement
Advertisement