Advertisement

Dinesh Trivedi & BJP Foreign Policy: কেন দীনেশকেই রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা? সে বার সিদ্ধার্থশঙ্কর US গিয়েছিলেন

তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম ভারত প্রতিবেশী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত পদের জন্য একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রস্তাব করেছে। ঢাকায় হাই কমিশনার হিসেবে বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীর নাম পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, অনুমোদনের জন্য নয়াদিল্লি ইতোমধ্যেই ত্রিবেদীর নাম ঢাকায় পাঠিয়েছে। বাংলাদেশের অনুমোদন পাওয়ার পরেই বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

 রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 20 Apr 2026,
  • अपडेटेड 10:49 AM IST


পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যেই বড় খবর সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করছে। দীনেশ ত্রিবেদী পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। সেইসঙ্গে তিনিই হবেন বাংলাদেশে প্রথম রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত ব্যক্তি। ভার্মা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর পদ গ্রহণের জন্য ব্রাসেলসে চলে যাবেন।

বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে মাত্র একজন রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত ব্যক্তি রয়েছেন। প্রাক্তন বিদেশ সচিব বিনয় কোয়াত্রা ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা থেকে অবসর গ্রহণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। লন্ডন ও ওয়াশিংটনের বাইরে রাজনৈতিক নিয়োগ বিরল ঘটনা। মোদী সরকারের আমলে প্রাক্তন সিবিআই প্রধান আর কে রাঘবনকে সাইপ্রাসে এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগকে সেশেলসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এই এলাকায়, সর্বশেষ ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে কাঠমান্ডুতে ঐতিহাসিক বিমল প্রসাদকে রাজনৈতিক নিয়োগ করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে জল্পনা চলছিল এবং বেশ কয়েকটি নাম আলোচনায় ছিল। দীনেশ ত্রিবেদী ১৯৯৪ ব্যাচের আইএফএস আধিকারিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ইতোমধ্যে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয়ী তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দই দেশের সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটেছিল। যখন এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, বিএনপি নির্বাচনে জিতবে, ভারত তখন থেকেই তারেক রহমানকে কাছে টানার চেষ্টা শুরু করে। বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর তারেকের মা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রী নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান দুই দিনের সফরে নয়াদিল্লি আসেন, যা বিএনপির ক্ষমতায় ফেরার পর প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সফর।

Advertisement

এই সফরকালে বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি অনুরোধ জানায়, যার মধ্যে ছিল ভারতকে ডিজেল ও সারের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ। পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলার অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। জয়শঙ্কর জানান, বাংলাদেশিদের জন্য, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে, ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী কেন?
প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলে বড় পদক্ষেপ বলা যায় দিল্লির এই সিদ্ধান্তকে। সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদেরই  এই পদে নিয়োগ করা হয়ে থাকে, তবে এক্ষেত্রে রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে বেছে নিয়ে বড় চমক দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ঢাকার সঙ্গে ভারতের নীতিগত পুনর্গঠন বা ‘পলিসি রিসেট’-এর লক্ষ্যেই এই 'হাই-প্রোফাইল' নিয়োগ বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিবিদদের মধ্যে এর আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় আমেরিকার রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর ফের বাংলার কোনও জননেতা এমন গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে আসীন হতে চলেছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, দুই বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতির নাড়ির টান এবং দীনেশ ত্রিবেদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন করতে চাইছে মোদী সরকার। বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজনীতির আঙিনা থেকে সরাসরি কূটনীতির ময়দানে দীনেশ ত্রিবেদীর এই নতুন ইনিংস ঘিরে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে।

৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী  প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী, যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে মনমোহন সিং সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০১২ সালের রেল বাজেট পেশ করেন, যেখানে যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছিল। দলীয় নেতৃত্বের বিরোধিতার কারণে এই পদক্ষেপে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

দীনেশ ত্রিবেদী ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন
প্রাক্তন রেলমন্ত্রী  দীনেশ ত্রিবেদী ২০২১ সালের ৬ মার্চ টিএমসি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল তাঁকে স্বাগত জানান। একই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি দীনেশ ত্রিবেদী টিএমসির রাজ্যসভা সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ত্রিবেদী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তৎকালীন দলীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডা বলেছিলেন, 'আমি যখন দীনেশ ত্রিবেদী সম্পর্কে কথা বলি, তখন সবসময় বলি যে তিনি ভুল দলে থাকা একজন ভালো মানুষ, এবং তিনিও তা উপলব্ধি করেছেন। এখন সঠিক মানুষটি সঠিক দলে আছেন, যেখানে আমরা নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের সেবায় তাঁকে কাজে লাগাতে পারব।'

Read more!
Advertisement
Advertisement