
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দিল্লিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন ঘিরে যখন ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ঘিরে নতুন করে তিক্ততা শুরু হয়েছে, তখন আজ অর্থাত্ সোমবার ঢাকায় তারেকের সঙ্গে ত্রিবেদীর বৈঠক অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।
তিক্ততা প্রশমনে বন্ধুত্বপূর্ণ টোন দ্বিনেশের গলায়
৯ অগাস্ট বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন দীনেশ। তারপরেই আজ তারেকের সঙ্গে বৈঠক হল। খলিলুরের সঙ্গে মিটিংয়ের পরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ইতিবাচক হতে চলেছে বলে দাবি করেন দ্বিনেশ ত্রিবেদী। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের নেতৃত্ব যদি সরাসরি আলোচনা করেন, তা হলে অনেক ইস্যুরই সমাধান সম্ভব।
দিল্লিতে হাসিনার ভাষণ ঘিরে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক তিক্ততা প্রশমনে বন্ধুত্বপূর্ণ টোন দীনেশের গলায়। রবিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে শিশুদের আলাদা কর্নারের উদ্বোধন করতে গিয়ে দীনেশ বলেন, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সকলেই অত্যন্ত সম্মান করি। আমি বহুবার তাঁর বক্তৃতা শুনেছি। তিনি মন থেকে কথা বলেন, এটা আমি দেখেছি। তিনি মানুষের মানুষ। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।'
BRICS সম্মেলনে কি ভারতে আসবেন তারেক?
গত ১২ জুন ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে ঢাকায় পৌঁছন দীনেশ ত্রিবেদী। সেপ্টেম্বর BRICS সম্মেলন হবে ভারতে। বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সম্ভবত ব্রিকস সম্মেলনে দিল্লি আসবেন না তারেক রহমান। ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে এই আমন্ত্রণ জানান। কারণ, বর্তমানে BIMSTEC-এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি। এদিকে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাংবাদিক বৈঠক নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। শুক্রবার ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, ওই সাংবাদিক বৈঠকের সঙ্গে ভারতের কোনও ধরনের যোগ ছিল না।
হাসিনার বক্তব্য ঘিরে তিক্ততা
গত ৫ অগাস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক সম্মেলন ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। যদিও ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন, হাসিনা যা যা বলেছেন, তা ভারত সরকার এনডোর্স করছে না। কেন্দ্রীয় সরকার কোনও ভাবেই জড়িত নয়।