
বাংলাদেশ ফের অশান্ত হতে চলেছে। এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে সেই দেশে। গত ২২ জুন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি কট্টরপন্থী জামাত ইসলামি বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় দেশ ছেড়ে যাওয়া প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, তিনি চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। এইসব ঘটনাপ্রবাহ দেখে অনেকে মনে করছেন, বাংলাদেশ ফের অশান্ত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে,বিএনপি-র মন্তব্য থেকে পরিষ্কার তারা আওয়ামি লিগকে আবারও বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। আর তাই যদি লক্ষ্য হয় তাহলে দেশটি ফের উত্তাল হবে। রক্ত ঝরবে। তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর জামাত ইসলামের ওপর থাকা পুরনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ এবং সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দলটি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে জামাত ৬৮টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ফলে বিএনপি নেতা তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে দলটি এখন বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
বিএনপি সাংসদের দাবি
২২ জুন ২০২৬ বাংলাদেশের সংসদে বিএনপির সাংসদ রফিকুল ইসলাম জামাত ইসলামির রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা এবং ধর্মকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা দলগুলিকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় এবং তাদের সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা দরকার। তিনি বলেন, দলের নামে 'ইসলাম' শব্দ থাকলেই সেই দল ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না। পাশাপাশি তিনি মসজিদকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার পক্ষেও মত দেন।
জামাতের পাল্টা জবাব
বিএনপির এই দাবির কড়া জবাব দেন জামাত ইসলামির সাংসদ এটিএম আজহারুল ইসলাম। সংসদে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'ধরুন আমাদের নিষিদ্ধ করা হল, তাহলে সেই শূন্যস্থান কে পূরণ করবে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করতে চান?' তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি কি আওয়ামি লিগকে আবারও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে?
প্রসঙ্গত,এই সরকার নতুনা রাষ্ট্রপতিকে শপথ নেওয়াতে পারেনি বলেও তারেক রহমান সরকারকে আক্রমণ করে জামাত। আসলে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনকে শেখ হাসিনার আওয়ামি লিগ সরকার মনোনীত করেছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনের নানা স্তরে বদল এলেও তাঁকে পদে বহাল রাখা হয়। তিনি নিজে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে পারেন, তবে এখনও তা করেননি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনিই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শেখ হাসিনার পরিকল্পনা
এদিকে, দেশ ছাড়ার পর প্রথমবার স্পষ্টভাবে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি এবং দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। আমার জীবনের প্রায় পুরোটা বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামি লিগ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং দেশের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। তাই আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই দেশে ফিরব।'
তিনি আরও বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনও ধরনের গোপন সমঝোতা বা ব্যাকচ্যানেল আলোচনা হয়নি। তাঁর মতে, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের মতো বিষয় কোনও গোপন রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় হতে পারে না। যদি কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মামলা থাকে, তবে তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।