
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বছর ভারতে রাষ্ট্রনেতাদের জন্য আম পাঠাতেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসও এই নিয়মের অন্যথা করেননি। গতবছরও যথারীতি আম পাঠানো হয়েছিল ভারতে। তবে এবছর জুনের মাঝামাঝি হয়ে গেলেও বাংলাদেশ থেকে ভারতে আম পাঠানোর কোনও খবর মেলেনি। উল্টে নেপালকে আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
জানা গিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশ নেপালের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে জোরদার করার লক্ষ্যে বার্ষিক ‘সিজন’স বেস্ট কমপ্লিমেন্টস’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য উপহার হিসেবে আম পাঠিয়েছে। এই আমের পরিমাণ ১ হাজার ৭৫০ কেজির বেশি। গত শুক্রবারই সেই পৌঁছে গিয়েছে কাঠমান্ডুতে। বাংলাদেশের দূতাবাসের টিম নেপালের রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দসহ ৩৬০ জনেরও বেশি প্রাপকের কাছে আমের প্যাকেট পৌঁছে দেন। আমগুলো বাংলাদেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি বাগান থেকে সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো আম নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিলিবন্টন হয়ে গেলেও এখনও দিল্লিতে তা পৌঁছয়নি। ভারতকে আদৌ আম পাঠানো হচ্ছে কিনা তাও স্পষ্ট করেনি ঢাকা। আম কূটনীতিতে ভারতকে এড়িয়ে নেপালকে এই বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। নেপালে আম গিয়েছে ভারতের ভূখণ্ড শিলিগুড়ি হয়ে। কিন্তু নয়া দিল্লিতে ঢাকার পক্ষ থেকে আম পাঠানোর খবর এখনো পর্যন্ত নেই।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট ভাবনা চিন্তা করেই নেওয়া হয়েছে। অতীতে আম কূটনীতিতে সর্বদাই ভারতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বাংলাদেশের তরফে। এ বারই তার ব্যত্যয় ঘটল। অনেকেই তারেক রহমানের সরকারের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গেই তার আসন্ন মালয়েশিয়া এবং চিন সফরকে এক করে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথম সফরে ভারতে আসতে পারেন বলে প্রাথমিক কথাবার্তা হলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকার কাছে গুরুত্ব পেয়েছে চিন। চলতি মাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মালয়েশিয়া যাবেন। সেখানে দুদিনের সফর শেষে দেশে ফিরে পরদিনই চিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দেশে প্রবেশের ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ভারত নয়াদিল্লির আইজিআই বিমানবন্দরে কিছুক্ষণের জন্য আটকে দিয়েছিল। তবে, বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উপদেষ্টা কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র কয়েক মাস আগে ক্ষমতায় আসা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) সরকারের কোনও কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এটিই প্রথম এমন ঘটনা।
ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহেদ উর রহমান ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন-এর একটি সভায় যোগ দিতে রবিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লি পৌঁছালে ভারতীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে। প্রথম আলো ও দি ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও ওই উপদেষ্টা ভারতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ওই উপদেষ্টা ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের আয়োজনে ১৫ ও ১৬ জুন অনুষ্ঠিত আইওআরএ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কমিটির ২৮তম বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে আসার কথা ছিল।