
শাকিব আল হাসান। বাংলাদশ ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং আওয়ামি লিগের প্রাক্তন সাংসদও। হাসিনা-সমর্থক হওয়ার জন্য তাঁকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে। তবে তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গ ছাড়বেন না। সাফ জানিয়ে দিলেন। আজ শুক্রবার জানিয়ে দেন, যে কোনও মূল্যে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের হয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাকিবকেও বাংলাদেশ ছাড়তে হয়। তিনি আমেরিকা চলে যান। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন। এর আগে বাংলাদেশ যাওয়ার সুযোগ পেয়েও যেতে পারেননি। অনেকে বলেছিলেন, হাসিনার দল ছাড়লে হয়তো সরকার তাঁকে দেশে প্রবেশের ও জাতীয় দলে খেলার অনুমতি দেবে। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন সাকিব। সম্প্রতি তিনি হাসিনার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেন। তার জেরে বাংলাদেশে তাঁর বাড়িতে হামলাও চলে। তবে তারপরও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ওই অলরাউন্ডার।
তিনি জানান, ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই তাঁর। তাঁর লক্ষ্য, বাংলাদেশে শান্তি ফেরানো। সেই কাজটা হাসিনার সঙ্গে করছেন। তাঁর সংযোজন, 'যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফিরতে চাই। তবে এখনই যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার চেষ্টা করব। শেখ হাসিনাও ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যদিও তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। ক্যাপ্টেন (হাসিনা) যা বলবেন, সেটাই করব। আমার মনে হয়, উনিই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা তাঁর নির্দেশই মেনে চলব।'
আওয়ামি লিগ ত্যাগ করলে তিনি দেশে ফিরতে পারেন। এমন পরামর্শ পেয়েছিলেন দাবি করে আরও বলেন, 'অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন, আওয়ামি লিগ ও শেখ হাসিনার থেকে দূরত্ব বজায় রাখলে আমার দেশে ফেরা সহজ হতে পারে। কিন্তু এমনটা করার কথা আমি কখনও ভাবতেই পারি না। আমি হাসিনার সঙ্গেই থাকব।'
দেশের জার্সিতে খেলার ইচ্ছা
শাকিবকে আর কোনওদিন বাংলাদেশের জার্সিতে দেখা যাবে কি না,তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আছে। শাকিব জানান, তিনি দেশের হয়ে এখনও খেলতে চান। বাংলাদেশ সরকার তাঁর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলেই ফিরবেন। যে সব মামলা আছে সেগুলির মুখোমুখি হবেন। তারপরই অবসর নেবেন। তাঁর কথায়, 'বাংলাদেশের মাটিতে একটি বিদায়ী আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলাই আমার ইচ্ছা। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চাই। আমি এখনও ক্রিকেট উপভোগ করছি। তবে বয়স আর আমার পক্ষে নেই। তাই খুব বেশি অপেক্ষা করতে পারব না।"
'
দুটি মামলা এখনও সক্রিয়
শাকিব জানান, বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলছে। একটি ছাত্র আন্দোলনের সময় এক বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগে, অন্যটি দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা দুর্নীতির মামলা। হত্যা মামলার প্রসঙ্গে বলেন, যেদিন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোয় একটি ম্যাচ খেলছিলেন। তাই এই মামলার কোনও ভিত্তি নেই।
দেড় বছর ধরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ
শাকিবের দাবি, তদন্তের নামে গত প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। যদিও কোন ব্যাঙ্কে কত টাকা আটকে রয়েছে, তা তিনি জানাননি। তাঁর কথায়, 'গত ১০ বছর ধরে আমি দেশের সবচেয়ে বেশি কর দেওয়া ক্রীড়াবিদদের একজন। সমস্ত কর পরিশোধ করেছি। তদন্ত করুন, কিন্তু কিছু না পেলে আমার অ্যাকাউন্টগুলি মুক্ত করে দিন।'