
ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভারতের জন্যই তিনি আশ্রয় পেয়েছেন। তাঁকে সম্মানের সঙ্গে রাখা হয়েছে এদেশে। বাংলাদেশ থেকে চলে আসার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে বললেন শেখ হাসিনা। ভারত সরকারের প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'আমরা যখনই বিপদে পড়েছি, ভারত আমাদের পাশে থেকেছে। কোনও সময় সাহায্য করা থেকে পিছু হটেনি।'
বাংলাদেশে ফিরবেন। আজ বুধবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে ফের পরিষ্কার করে দেন হাসিনা। 'কিন্তু কীভাবে ফিরবেন? সেজন্য কি তাঁর বা ভারত সরকারের তরফে কোনওভাবে তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে?' এক সাংবাদিকের এই প্রশ্নের উত্তরে মুজিবুর কন্যা বলেন, 'ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। বাংলাদেশ যখনই বিপদে পড়েছে, ভারত পাশে দাঁড়িয়েছে। সর্বশক্তি দিয়ে সাহায্য করেছে। আমরা বিপদে পড়লে আশ্রয় দিয়েছে। সে যেমনই পরিস্থিতি হোক না কেন। সেজন্য তো আমরা ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। সরকারের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক সব সময় অন্য রকম থাকে। সেটা আলাদা বিষয়। আমি জানতাম না ওই অসময়ে এখানে আসব। কিন্তু এসেছি। আমার মানুষজন আমাকে এখানে এনেছিলেন। আশ্রয় দেওয়ার জন্য। ভারত সব সময় বন্ধুত্বের সম্পর্ক পালন করে এসেছে। আমি দেশে ফিরতে চাই। দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই। এটা সরকারের বিষয় নয়।'
জিয়াউর রহমানও আমাকে দেশে ফিরতে বাধা দিয়েছিলেন : শেখ হাসিনা
এবারও যে তিনি দেশে ফিরবেন সেই ব্যাপারে নিশ্চিত তার উদাহরণ দিতে গিয়ে হাসিনা জানান, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেও তাঁকে বাংলাদেশে ফিরতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সেই বাধা উপেক্ষা করে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। এবারও ফিরবেন। তাঁর কথায়, 'আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, আমাকে হত্যা করা হতে পারে... যা-ই ঘটুক না কেন, আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে।'
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মহম্মদ ইউনূসের সরকারের সমালোচনায় একাধিকবার মুখর হয়েছিলেন হাসিনা। এবার BNP-র বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। জিডিপি বৃদ্ধির হার কমেছে, কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবার শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে, খেলাপি ঋণ বেড়েছে, দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগও কমেছে।
'ব্যাঙ্ক থেকে ৭০০-৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে দেশ চলছে'
শেখ হাসিনার অভিযোগ, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক থেকে ৭০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সরকার পরিচালনা করছে। তাঁর আরও দাবি, বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বা আত্মগোপনে চলে গিয়েছেন।
'আওয়ামি লিগের নেতাদের উপর অত্যাচার'
শেখ হাসিনার আরও দাবি, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে আওয়ামি লিগের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক, পুলিশকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিচারক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা গ্রেফতার, নির্যাতন ও হিংসার শিকার হয়েছেন। যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে যুক্ত ছিলেন তাঁদের লক্ষ্য করছে এই সরকার। অত্য়াচার নামিয়ে আনছে। এমনও অভিযোগ শোনা যায় তাঁর মুখে।
হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্য
মায়ের মতো ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও। বলেন,'ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আসার পর থেকে শেখ হাসিনাকে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মতোই সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাঁকে সম্মান, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ আর একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। সেটা ভারতেরও উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।