
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসেননি। তাঁর সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন সেই দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কূটনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করেছিলেন, হাসিনা ভারতে আছেন বলেই তারেক ভারতে যাননি। তার জবাব দিয়ে হাসিনা বলেন,১৯৭৯ সালে যখন হাসিনা ভারতে ছিলেন তখন তো তারেকের বাবা তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিল্লি সফর করেছিলেন। তাহলে তারেক কেন ব্রিকসে এলেন না?
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভুল পদক্ষেপ করছে বলেও দাবি করেন হাসিনা। তাঁর মতে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত তারেকের। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ঠিক না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের ক্ষতি হতে পারে।
এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে নজরে এসেছে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একাধিক আঞ্চলিক বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি। গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেননি তারেক রহমান। তার প্রায় এক মাসের মধ্যে, ১৩ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিমসটেক (BIMSTEC) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন না বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। ফলে ভারত-বাংলাদেশের টানাপোড়েনের আবহে ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
‘আমি দিল্লিতে থাকলে তারেক রহমানের আসতে বাধা কোথায়?’
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তারেক রহমানের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেন। বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটানো হাসিনা বলেন, তাঁর উপস্থিতিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে তুলে ধরা যুক্তিসঙ্গত নয়।
হাসিনার কথায়, 'তা হলে আমি দিল্লিতে রয়েছি বলে জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান আজ ভারতে আসতে পারবেন না কেন? এই সিদ্ধান্তের পিছনে আসল কারণ কী?'
এই প্রসঙ্গে প্রায় পাঁচ দশক আগের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান এবং পরিবারের একাধিক সদস্য ১৯৭৫ সালের অগাস্টে নিহত হওয়ার পর হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি দিল্লিতে থাকতেন। হাসিনার বক্তব্য, ওই পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দিল্লি সফরে কোনও বাধা তৈরি হয়নি।
পিটিআইকে হাসিনা বলেন, '১৯৭৯ সালে যখন তিনি দিল্লি সফর করেছিলেন, তখন আমি দিল্লিতে থাকতাম। ১৯৮০ সালে যখন তিনি লন্ডনে গিয়েছিলেন, তখন আমিও লন্ডনে ছিলাম। কোনও শহরে আমার উপস্থিতি তাঁর সফরে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।'
তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর বাবার অতীত সফরের তুলনা টেনে হাসিনা বোঝাতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব। তাঁর মতে, কোনও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সীমিত করে দেওয়া উচিত নয়।
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি নিয়ে হাসিনা বলেন, 'বাংলাদেশের এই বৈঠকে অংশ না নেওয়াটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমার মতে, এটি একটি অপরিণত সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পক্ষে সহায়ক নয়।'
তাঁর বক্তব্য, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি বলেই মনে করেন তিনি।
কেন ব্রিকস সম্মেলনে যাননি তারেক রহমান?
বিতর্কের সূত্রপাত সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। ভারত আয়োজিত ওই সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বিমসটেকের সাত সদস্যের আঞ্চলিক গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছে। সেই সূত্রেই তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে ভারতের তরফে জানানো হয়। ১৪ জুলাই তারেক রহমানকে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রে মোদী উল্লেখ করেছিলেন, ওই আলোচনায় তাঁর উপস্থিতি সম্মেলনের আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে।
কিন্তু আমন্ত্রণের বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সরকার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়। ঢাকার বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বরং বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই পার্থক্যকেই সামনে রেখে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
১০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, 'আমরা কী ভাবে যাব? বাংলাদেশের সরকারের কাউকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কে আপনাদের বলেছে যে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? বিমসটেকের চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।'
কবিরের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরকে ঢাকা আলাদা গুরুত্ব দিতে চাইছে। সেই সফর দ্বিপাক্ষিক সফর হওয়া উচিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, দুই দেশের মধ্যে সফরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে তারেক রহমান ভারতে যেতে পারেন।
অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান ছিল, ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণের পাশাপাশি তারেক রহমানের জন্য আলাদা দ্বিপাক্ষিক সফরের বিষয়টিও খোলা ছিল। কিন্তু আমন্ত্রণের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি। শেষ পর্যন্ত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনও সরকারি প্রতিনিধি দলই অংশ নেয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও একবার প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা এই বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।
ব্রিকসের পর বিমসটেক বৈঠকেও অনুপস্থিত বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির পর এবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেকের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগ না দেওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
১৩ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন না। তাঁর পরিবর্তে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সিনিয়র সচিব মনজুর মোরশেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’-র ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ না দেওয়ার বিষয়টি আগেই বিমসটেক সচিবালয়কে জানানো হয়েছিল। ৪ অক্টোবর কূটনৈতিক চিঠির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের তালিকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের কয়েক জন শীর্ষ সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রথম আলো জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বিমসটেকের ইতিহাসে এই বৈঠক ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৭ সালে আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রায় তিন দশক পর প্রথমবার সদস্য দেশগুলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই বৈঠকের বিশেষ তাৎপর্য ছিল।
বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্তপারের অপরাধ, গোয়েন্দা তথ্যের আদানপ্রদান, মানবপাচার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়। সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুপস্থিতি তাই কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অনুপস্থিতির পর একই দেশে আয়োজিত আরেকটি বহুপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
হাসিনার ভারতে অবস্থানই কি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রধান বাধা?
২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। তার পরেই তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। অগস্ট ২০২৪ থেকে তিনি ভারতে রয়েছেন। সেই সময় থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। ঢাকার বক্তব্য, হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, হাসিনা বাংলাদেশের তাঁর বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতির জন্য কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বারবার সামনে এসেছে। কিন্তু হাসিনার অবস্থান, তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে অস্বস্তি অব্যাহত রয়েছে।
গত ৫ অগাস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন হাসিনা। তাঁর ওই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফরের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। অন্যদিকে, ভারত স্পষ্ট করে দেয় যে ওই ভার্চুয়াল সংবাদমাধ্যমের আলোচনার আয়োজন ভারত করেনি এবং বাংলাদেশের সরকার সম্পর্কে হাসিনার বক্তব্যকেও ভারত সমর্থন করেনি।
এর পর ২৪ সেপ্টেম্বর জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বাংলাদেশে ফিরতে চান হাসিনা, সামনে কী?
ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটালেও বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা বারবার জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার প্রত্যয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে দেশে ফিরলে গ্রেফতার, কারাবাস, এমনকি মৃত্যুর মুখেও পড়তে পারেন বলে স্বীকার করেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টে আন্দোলন দমনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে ওই রায় সম্পর্কিত। তাঁর বিরুদ্ধে হিংসায় উস্কানি দেওয়া, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে হাসিনা ও বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ফলে হাসিনার ভারতে থাকা এবং তারেক রহমানের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তকে আলাদা করে দেখা কঠিন।
পিটিআইকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে হাসিনা অবশ্য তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে কোনও এক ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।