
হাসিনা কি ফিরছেন? আওয়ামি লিগের মেগা সমাবেশ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা বাংলাদেশে। ২০২৪ এর অগাস্টে ছাত্র আন্দোলনের জেরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে প্রায় দু’বছর ধরে ভারতে নির্বাসনের জীবন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এরই মধ্যে সম্প্রতি বড় বার্তা দেন শেখ হাসিনা। জানান, এ বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন। তাঁর এই বার্তার পরই ওপার বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। আগামী বুধবার দেশজুড়ে একটি বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামি লিগ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ঢাকার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠন করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (BNP) জোট। তবে আওয়ামি লিগের এই আকস্মিক সক্রিয়তা এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের হুঁশিয়ারি ঢাকার বর্তমান শাসকদলকে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে চ্যালেঞ্জ, রাজপথে আওয়ামি লিগ
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) একটি মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে সোমবার জারি করা একটি বিবৃতিতে এই রায়কে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি এবং অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। মূলত এই রায়ের প্রতিবাদেই এবং দল যে ফুরিয়ে যায়নি তা প্রমাণ করতে আগামী বুধবার বাংলাদেশজুড়ে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হাসিনাকে স্তব্ধ করতেই এই একতরফা বিচার করা হয়েছে।
একটি সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজে জানিয়েছেন, 'আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা, মা ও ভাইদের হারিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে এ বছরই আমি আমার দেশে ফিরব। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য।'
বিএনপি বনাম জামাত: নতুন সমীকরণ?
আওয়ামি লিগের এই প্রত্যাবর্তনের চেষ্টার মাঝেই বাংলাদেশের বর্তমান শাসক শিবিরেও নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংসদে বিএনপির এক সাংসদ নাম না করে জামাত-এ-ইসলামির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি তোলেন। এর জবাবে পাল্টা সুর চড়িয়েছে জামাতও। তারা প্রশ্ন তুলেছে, তারেক রহমানের দল কি আসলে আওয়ামি লিগকে একচ্ছত্র বিরোধী শক্তি হিসেবে দেখতে চাইছে? শাসক জোটের এই অভ্যন্তরীণ দড়ি টানাটানির ফায়দা তুলে আওয়ামি লিগ এবার রাজপথে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে।
তবে বিএনপি সরকার এবং প্রশাসন এই মেগা সমাবেশকে ঘিরে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আওয়ামি লিগের প্রথম সারির বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
নজর আন্তর্জাতিক মহলের
বুধবারের এই সমাবেশে ঠিক কত মানুষের জমায়েত হয় এবং আওয়ামি লিগ কতটা জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে, সেদিকেই নজর কূটনৈতিক মহলের। শেখ হাসিনার ভারত থেকে প্রত্যর্পণের দাবি ঢাকা বারবার তুললেও, নয়াদিল্লি এখনও এই বিষয়ে কোনও সবুজ সংকেত দেয়নি। শেখ হাসিনা এ বছর ওপার বাংলায় ফিরে নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।