
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি ভারত সফরে আসবেন? যা জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত সম্ভাবনা বেশ কম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিছু জানানো হয়নি বাংলাদেশের তরফে। তারেকের ভারত সফর ঘিরে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যেই এবার একাধিক শর্ত রাখলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তারেক রহানের ভারত সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা
তাঁর দাবি, তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন কিনা, তা নির্ভর করছে তাঁর সফরসূচি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে। ওই মন্ত্রীর কথায়, 'সব দেশেই সফর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ইতিবাচক ভাবে ভাবছে। কিন্তু এটা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী সফরসূচি ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির উপরে।'
'BRICS এখনও অনেক দেরি'
দিল্লিতে BRICS সামিট আউটরিচে যোগদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেপ্টেম্বর মাসের ১২-১৩ তারিখে ভারতে আয়োজিত হবে এই ইভেন্ট। BRICS-এর আউটরিচ BIMSTEC-এর সদস্যভূক্ত দেশগুলি হল ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, মায়ানমার ও নেপাল। মূলত বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলি। তারেকের ভারত সফর প্রসঙ্গে শামা একটি তাত্পর্যপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন। তিনি বলেন, 'BRICS এখনও অনেক দেরি। তার আগে একমাসে অনেক কিছু ঘটবে। বাংলাদেশ সরকার ভীষণ ব্যস্ত, প্রধানমন্ত্রীও ব্যস্ত। যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তা হলে ভারত ও জাপান সফরের পরিকল্পনা থাকতে পারে।'
মূলত বাংলাদেশ চাইছে, ভারত অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিক। ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের অবনতি ঘটে ২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর। এরপর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার উদ্যোগ শুরু করে দুই দেশ। ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি। সংসদীয় নির্বাচনে তাঁর দলের বিপুল জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন রহমান।
এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক মেরামতের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই তাঁর এই সফর।
দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলির সমাধানে জোর
এরপর সম্প্রতি শেখ হাসিনা দিল্লিতে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। ভারত সাফ জানিয়ে দেয়, এই ইভেন্ট সম্পূর্ণ বেসরকারি। এরসঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। কেন্দ্র এই ইভেন্টকে এনডোর্স করছে না। কিন্তু বাংলাদেশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিএনপি সরকার ভারতের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করে বিবৃতিতে জানায়, ভারত একজন পলাতক, দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারীকে ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে ‘বিষাক্ত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য’ প্রচারের সুযোগ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে কি না, জানতে চাওয়া হলে শামা বলেন, দুই দেশের সরকারের প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হলে অমীমাংসিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর কথায়, 'দুই দেশের শীর্ষ নেতারা যখন কথা বলেন, তখন অনেক সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ এখনও রয়েছে, তা বজায় আছে।'