
কয়েক হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করে দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। কোনও রকম অগ্রিম সতর্কবার্তা বা কারণ ছাড়াই দেদার ভিসা বাতিল চলছে। ফলে যে সব বাংলাদেশি নাগরিক UAE বা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে বাংলাদেশ ফিরছেন, তাঁরা আর আরব আমিরশাহি যেতে পারছেন না। প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা ইতিমধ্যেই বাতিল করে দিয়েছে UAE। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, অনেক পাকিস্তানি নাগরিকও অভিযোগ করছেন, কোনও রকম আগাম সতর্কতা না দিয়ে বা সঠিক কারণ না জানিয়েই তাঁদের ভিসা বাতিল করে দিচ্ছে UAE।
বাংলাদেশিদের তাড়াচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি
UAE-তে প্রায় ১২ লক্ষ বাংলাদেশি বসবাস করেন। ভারতীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকের পরে তৃতীয় দেশ, যাঁদের বহু নাগরিক UAE-তে থাকেন। এঁরা বেশির ভাগই UAE-তে নির্মাণ শিল্প, ম্যানুফ্যাকচারিং ও পরিবহণ ক্ষেত্রে কাজ করেন। বহু বাংলাদেশি নারগিক, যাঁরা UAE থেকে তাঁদের বাড়িতে ফিরেছিলেন, তাঁরা আর UAE যেতে পারছেন না। ভিসা ও বিদেশে কাজের জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা এঁরা বিভিন্ন এজেন্সিকে দিয়েছিল। নানা ভাবে ধারদেনা করে। এ বার সেই ঋণের বোঝা ও সংসার চালানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে রোজগার করে নিজের দেশে টাকা পাঠায়, এরকম বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে পরিমাণ রয়েছে বাংলাদেশিই। ২০২৩-২০২৪ সালের মধ্যে দেখা গিয়েছে, UAE-তে রোজগার করে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর পরিমাণ ৫২ শতাংশ বেড়েছে।
ভিসা বাতিলের কোনও কারণও জানানো হচ্ছে না
বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের দাবি, UAE কোনও কারণও জানাচ্ছে না ভিসা বাতিলের। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম 'ডেইলি স্টার'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমান সরকার এই বিষয়টি UAE সরকারকে জানিয়েছে আনুষ্ঠানিক ভাবে। UAE-র কাছে এ বিষয়ে উত্তরও চাওয়া হয়েছে। আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি প্রায় ২৭ বছর ধরে UAE-তে বাস করছেন ও কাজ করেন। তাঁরও ভিসা বাতিল করা হয়েছে। আবুল কালামের কথায়, 'আমি গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে ফিরেছিলাম। ২৪ জুলাই একটি ই-মেল পেলাম। দেখলাম, আমার ভিসা বাতিল করে দিয়েছে UAE। কোনও কারণও লেখা ছিল না।'
বিএনপি সরকারের দ্বারস্থ UAE-তে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা
ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে ৩০০ বাংলাদেশি, যাঁরা UAE-তে কাজ করেন ও বসবাস করেন, তাঁরা ঢাকা প্রেস ক্লাবে সরকারপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন। তাঁরা যে ৫টি দাবি রেখেছেন, তার মধ্যে রয়েছে, যদি তাঁরা UAE আর না ফিরতে পারেন, তা হলে বাংলাদেশ সরকার যেন তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে। এবং আর্থিক সাহায্যেরও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের আরও দাবি, বাংলাদেশ সরকার তাঁদের সংসার চালানোর জন্য প্রতিমাসে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি টাকা দিক।
এক বাংলাদেশির কথায়, 'আমার বিরুদ্ধে কোনও অপরাধের কেস নেই UAE-তে। আমার ওখানে দুটি ব্যবসা রয়েছে। আমার স্ত্রী এখানে থাকেন। আমি দুবাইয়ে থাকি। সেই ব্যবসার কী হবে! এখন দরজায় দরজায় ঘুরছি।'
বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী নুরুল হক নূর একটি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, UAE-তে বহু বাংলাদেশির কাজ, ব্যবসা ইত্যাদি রয়েছে। আমরা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করছি।
গত একবছরে পাকিস্তানিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কড়া হয়ে গিয়েছে UAE। অপরাধের মামলা বা ভিক্ষা বৃত্তি করলে ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, UAE শুধুমাত্র স্কিলড লেবারদেরই ভিসা দিচ্ছে। যার নির্যাস, বিদেশিদের জন্য কর্মসংস্থানের পরিধি ছোট করছে UAE।