Advertisement

Bangldesh and Mecca Deal: ইসলামিক NATO-তে যোগ দিলে বাংলাদেশের কী লাভ হবে? সেটাই তো স্পষ্ট নয়

বাংলাদেশের বক্তব্য, যদি বাংলাদেশ ও তার জনতার স্বার্থ সিদ্ধি হয়, তা হলে মক্কা ডিলে যোগ দেওয়ার কথা ইতিবাচক ভাবে ভাববে ঢাকা। বাংলাদেশ যদি ইসলামিক ন্যাটো-তে যোগ দেয়, তা ভারতের কাছে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ পূর্ব ভারতের সীমান্তে পাকিস্তানের জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়তে পারে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলিও উস্কানি পেতে পারে।

ইসলামিক ন্যাটো-তে যদি যোগ দেয়, বাংলাদেশে কী লাভ-- পিটিআই ছবি ইসলামিক ন্যাটো-তে যদি যোগ দেয়, বাংলাদেশে কী লাভ-- পিটিআই ছবি
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 25 Aug 2026,
  • अपडेटेड 10:32 AM IST
  • পূর্ব ভারতের সীমান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি
  • বাংলাদেশের পাকিস্তানিকরণ হচ্ছে
  • মক্কা চুক্তিতে যদি বাংলাদেশ সই করে, তা হলে ঢাকা কী অফার করতে পারে?

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে প্রতিরক্ষা ডিল হয়েছে, যাকে ইসলামিক NATO বলা হচ্ছে, সেই গোষ্ঠীতে আরও মুসলিম প্রধা দেশকে সামিল করার তোড়জোড় চলছে। আর এই প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ধীরে ধীরে তা পূর্ব ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে। কেন পূর্ব ভারত? তার কারণ, ইসলামিক NATO-তে যোগ দিতে বাংলাদেশও ইতিবাচক ভাবেই এগোচ্ছে। যদিও ঢাকা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এই বিষয়ে। তবে আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। জানা যাচ্ছে, শীঘ্রই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধ সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

পূর্ব ভারতের সীমান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন দিল্লি

বাংলাদেশের বক্তব্য, যদি বাংলাদেশ ও তার জনতার স্বার্থ সিদ্ধি হয়, তা হলে মক্কা ডিলে যোগ দেওয়ার কথা ইতিবাচক ভাবে ভাববে ঢাকা। বাংলাদেশ যদি ইসলামিক ন্যাটো-তে যোগ দেয়, তা ভারতের কাছে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ পূর্ব ভারতের সীমান্তে পাকিস্তানের জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়তে পারে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলিও উস্কানি পেতে পারে।

গত ৭ অগাস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান মিলে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের মধ্যে একটিতেও হামলা হলে, তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবেই দেখা হবে। NATO গোষ্ঠীর চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদেও এটাই রয়েছে।   ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখনও কিছুটা অস্বস্তিকর, যদিও দু’দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এর পাশাপাশি মার্কিন নিরাপত্তা-ছত্রছায়ার উপর নির্ভর করে তৈরি নিজেদের নিরাপত্তা-ধারণা নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলিও নতুন করে ভাবছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মক্কা চুক্তি নতুন কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সঙ্গে নতুন কিছু ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের পাকিস্তানিকরণ হচ্ছে

তবে মক্কা চুক্তি নিয়ে ঢাকা কিছুটা সাবধানী ও ধীরে চলো পদক্ষেপ করছে। তবে যদি বাংলাদেশ ওই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত সই করে, তবে বাংলাদেশের 'পাকিস্তানিকরণ' ভাবাচ্ছে ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।  বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কিছু পদক্ষেপে ইসলামিক ভাবধারার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাড়ি রাখা, প্রকাশ্যে ইসলামকেন্দ্রিক বার্তা দেওয়া এবং প্রথম চার খলিফার নামে সেনাবাহিনীর নতুন ইউনিট তৈরি, এই বিষয়গুলি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Advertisement

এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য রিয়াধ সফরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই সবকিছু মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশ হয়তো ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে পরিচিত এই প্রতিরক্ষা জোটের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার কথা ভাবছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে, ঢাকা ইসলামিক দেশগুলির এই নতুন নিরাপত্তা জোটের দিকে আরও ঝুঁকতে পারে।

মক্কা চুক্তিতে যদি বাংলাদেশ সই করে, তা হলে ঢাকা কী অফার করতে পারে?

ইসলামিক ন্যাটো-তে বাংলাদেশ যোগ দেওয়া মানে, একতরফা লাভবান হবে না ঢাকা। বাংলাদেশকেও কিছু দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ব ভারতের কাছাকাছি সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের আনাগোনা বাড়বে। যা ভারতের কাছে অস্বস্তির কারণ। করাচির নিরাপত্তা বিশ্লেষক আলি কে চিস্তির বক্তব্য, বাংলাদেশ এই জোটে যোগ দিলে, গড়ে ওঠা মুসলিম দেশগুলির প্রতিরক্ষা জোটটি ভারতের পূর্ব সীমান্তের একেবারে কাছেই দক্ষিণ এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পেয়ে যাবে।

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু সেটা কোনও সামরিক জোটের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার মতো বিষয় নয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা ম্যান্ডেট থাকে। কিন্তু কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে জোটের কোনও সদস্য দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে অন্য সদস্যদেরও তাকে রক্ষা করতে সেনা পাঠানোর কথা বলা হতে পারে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া বড় ধরনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত হবে।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ কী দিতে পারে?

বাংলাদেশ এই জোটকে প্রশিক্ষিত সেনা, আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বঙ্গোপসাগরে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান দিতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের মূল প্রশ্ন হল, এই জোটে যোগ দিয়ে তারা বিনিময়ে যথেষ্ট সুবিধা পাবে কি না এবং একই সঙ্গে নিজেদের স্বাধীন বিদেশনীতি বজায় রাখতে পারবে কি না। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিদায়ের পর বাংলাদেশ তার স্বাধীনভাবে ও নিজের স্বার্থ অনুযায়ী বিদেশনীতি পরিচালনার বিষয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। তাই কোনও সামরিক জোটে যোগ দিলে সেই বিদেশনীতি পরিচালনার স্বাধীনতা কতটা বজায় থাকবে, সেটিই ঢাকার জন্য বড় বিষয়।

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের কী স্বার্থ, তা স্পষ্ট নয়

এই কারণেই ভারত পুরো বিষয়টির দিকে খুব নজর রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা হতে পারে এই জোটে পাকিস্তানের ভূমিকা এবং জোটের প্রভাব বাংলাদেশ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়া। অর্থাৎ, পাকিস্তান এবং ক্রমশ বেশি কট্টরপন্থার দিকে ঝুঁকছে বলে যাকে বর্ণনা করা হচ্ছে সেই বাংলাদেশ, এই দুই দেশকে নিয়ে কোনও নিরাপত্তা জোট তৈরি হলে, তা নয়াদিল্লির জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রাক্তন কূটনীতিবিদ এম শাহিদুল ইসলামের বক্তব্য, ইসলামিক ন্যাটো বা মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগেল ঢাকাকে বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে গভীরে ভাবতে হবে। বাংলাদেশের উচিত এমন একটি বিদেশনীতি নেওয়া,যাতে দেশের স্বার্থসিদ্ধি হয়, অন্যকে দয়া করার জন্য কোনও চুক্তিতে যাওয়া ঠিক নয়। তাই বাংলাদেশের কী স্বার্থসিদ্ধি হবে এই যুক্তিতে যোগ দিলে, তা এখনও ঠিক স্পষ্ট নয়।

Read more!
Advertisement
Advertisement