
'ম্যায়নে পেয়ার কিয়া' ছবিটি ছিল সলমন খানের কেরিয়ারের সবচেয়ে সফল ছবিগুলির মধ্যে একটি। এই ছবির মাধ্যমেই তিনি বিশ্বজোড়া পরিচিতি লাভ করেন। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছিল সলমনকে। তবে পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে তিনি এই ছবির নায়িকার চেয়ে কম অর্থ পেয়েছিলেন। সলমনের বিপরীতে ছিলেন ভাগ্যশ্রী। এই ছবির মাধ্যমেই বড় পর্দায় অভিষেক হয় নায়িকার। বি-টাউনের গুঞ্জন, সলমনের চেয়ে চার গুণ বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ভাগ্যশ্রী।
বলিউডের নায়িকারা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় তাঁদের কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। অথচ প্রায় ৩৫ বছর আগেই ভাগ্যশ্রী পেয়েছিলেন সেই সময়ের হিসেবে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজশ্রী প্রোডাকশনস ভাগ্যশ্রীকে পারিশ্রমিক হিসেবে ১ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। অন্যদিকে সলমন, তাঁর কেরিয়ারের এই দ্বিতীয় ছবিতে কাজ করে পেয়েছিলেন মাত্র ২৫,০০০ টাকা।
সলমনের চেয়ে ভাগ্যশ্রী কেন বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন?
সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পে পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বৈষম্য নিয়ে ভাগ্যশ্রীর একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেই সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সলমন খানের চেয়ে তিনি বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন- এই দাবিটি কি সত্য? জুম চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "সবকিছুই নির্ভর করে চাহিদা ও জোগানের ওপর। অর্থের বিষয়টি যখন আসে, তখন এটি একটি সাধারণ ব্যবসায়িক লেনদেন ছাড়া আর কিছুই নয়। একজন নারী যতই কঠোর পরিশ্রম করুন না কেন, যদি কোনও প্রযোজক বা পরিচালকের মনে হয় যে, অন্য কোনও নারী কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে রাজি আছেন, তবে তাঁরা তাঁকেই নিয়োগ দেবেন। সেই মুহূর্তে, তাঁরা ওই অভিনেত্রীকে ততটুকুই পারিশ্রমিক দেবেন, যতটুকু দিতে তাঁরা ইচ্ছুক।"
ভাগ্যশ্রী যোগ কেন, "তখন ওই অভিনেত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে, তিনি কাজটি ছেড়ে দেবেন কিনা এবং অন্য কাউকে সেই সুযোগটি ছেড়ে দেবেন কিনা। যতক্ষণ পর্যন্ত মহিলারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেবেন যে, তাঁরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য, ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমস্যা থেকেই যাবে। নিজে থেকে বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনও কিছুরই পরিবর্তন হবে না। সব সময়ই এমন কেউ না কেউ থাকবেন, যিনি সামান্য কম পারিশ্রমিকে কাজ করতে রাজি হয়ে যাবেন কিংবা দরকষাকষির মাধ্যমে নিজের পারিশ্রমিক কমিয়ে নিতে সম্মত হবেন—আর এটি খুবই সাধারণ একটি বিষয়।"
ভাগ্যশ্রী তাঁর পারিশ্রমিকের বিষয়টিকে একটি ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, "আপনি যা প্রত্যাশা করেন, তা সবসময় ঘটে না—এবং ভবিষ্যতেও হয়তো কখনওই ঘটবে না। সবসময়ই এমন কেউ না কেউ থাকবেন, যিনি নিজের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং মেধার বিনিময়েও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে ছাড় দিতে রাজি থাকবেন। এই বাজারটি অত্যন্ত অস্থির এবং এর গতিপ্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকে। যখন আপনি কারও সঙ্গে কাজ করবেন, তখন বিষয়টি কেবল অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরং ওই ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করাটা আপনি কতটা উপভোগ করছেন—সে বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।"
প্রসঙ্গত, ভাগ্যশ্রীকে সম্প্রতি রিতেশ দেশমুখের ছবি 'রাজা শিবাজি'-তে দেখা গেছে। এই ছবিতে তিনি ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। মজার ব্যাপার হল, এই ছবিতে ভাগ্যশ্রী এবং সলমন খান দু'জনেই অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের একটিও দৃশ্য একসঙ্গে ছিল না।