
ফের আলোচনায় 'হেরা ফেরি'। প্রিয়দর্শন পরিচালিত, ২০০০ সাল মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'হেরা ফেরি' আজও দর্শকদের অত্যন্ত প্রিয়। এই কমেডি ঘরানার ছবিটি পুরো একটি প্রজন্মকে হাসিয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই, যখন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির পরবর্তী ছবির ঘোষণা এল, তখন সবাই দারুণ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিল। প্রথম ছবির মুখ্য তিন অভিনেতা অক্ষয় কুমার, সুনীল শেঠি এবং পরেশ রাওয়ালকে সঙ্গে নিয়েই নির্মাতারা 'হেরা ফেরি ৩'-র ঘোষণা করেছিলেন। এই ছবিটি নিয়ে সবাই উত্তেজিত ছিলেন এবং আবারও তাঁদের একসঙ্গে কাজ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। তবে, দর্শকদের সেই আশায় এবার কিছুটা জল।
দীর্ঘদিন ধরেই 'হেরা ফেরি ৩' ছবিটি বাতিল বা স্থগিত হয়ে যাওয়া এবং অভিনেতা ও পরিচালকের মধ্যে মতবিরোধের খবর শোনা যাচ্ছিল। এর পাশাপাশি আইনি জটিলতাও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এরই মধ্যে, অক্ষয় কুমার নিশ্চিত করেছেন যে, আইনি জটিলতার কারণেই 'হেরা ফেরি ৩' ছবিটি আর তৈরি হচ্ছে না। 'ভূত বাংলা' খ্যাত এই অভিনেতা জানান, এই খবর শুনে তিনি নিজেও স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, কবে অক্ষয় কুমার তাঁর সেই আইকনিক চরিত্রে ফিরে আসবেন এবং সুনীল শেঠি ও পরেশ রাওয়ালের সঙ্গে আবারও পর্দায় জাদু ছড়াবেন।
'হেরা ফেরি ৩' কি স্থগিত?
শুভঙ্কর মিশ্রের সঙ্গে আলাপচারিতায় অক্ষয় কুমার বলেন, "এই মুহূর্তে 'হেরা ফেরি ৩' হচ্ছে না... আমি নিজেও এই খবরে স্তম্ভিত। তবে ঠিক আছে, 'ওয়েলকাম' ছবিটি তো হচ্ছেই। সবকিছু যাতে ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য আমাকে হয়তো কিছু মন্ত্র জপ করতে হবে!এর কাজ শুরু হতে এক বছর সময় লাগবে। এই প্রজেক্টটি নিয়ে অনেক ধরনের সমস্যা বা জটিলতা রয়েছে; তবে বিষয়টি এমন নয় যে আমরা তিনজন (অভিনেতা) আর একসঙ্গে নেই।" তিনি আরও যোগ করেন, "ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল ছবিতে আমরা তিনজনই একসঙ্গে কাজ করছি। কিছু বিষয় রয়েছে যা আমি ক্যামেরার সামনে বা প্রকাশ্যে আলোচনা করতে পারি না। অনেক বিষয় এবং চুক্তিগত জটিলতা রয়েছে, যার কারণেই এই প্রজেক্টটির কাজ আটকে আছে।"
ছবিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন চিত্রনাট্যকার
বর্তমানে আইনি জটিলতার কারণে 'হেরা ফেরি ৩' ছবিটির কাজ স্থগিত হয়ে আছে। ছবির চিত্রনাট্যকার রোহান শঙ্কর এর আগে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ছবিটির টিজার লিখেছিলেন এবং তাঁরই এই ছবির চিত্রনাট্যের কাজ করার কথা ছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে তিনি এখন আর এই প্রজেক্টের অংশ নন। তিনি বলেন, "আমার আলোচনা চলছিল এবং কথা ছিল যে এটি হবে, কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে শেষমেশ তা আর হয়ে ওঠেনি। আশা করছি, যদি 'হেরা ফেরি ৩' নির্মিত হয়, তবে সম্ভবত আমিও এর একটি অংশ হব।"
রোহান আরও জানান যে, 'হেরা ফেরি ৩' ঘিরে সৃষ্ট নানা সমস্যা পরিচালক প্রিয়দর্শনকে দমাতে পারবে না। তিনি বলেন, "একটি ছবি বানাতে হয়, এরপর অন্যটির চিত্রনাট্য লিখতে হয়, তারপর আবার অন্যটির শ্যুটিং করতে হয়—এভাবেই অবিরাম কাজ করি। এখন প্রশ্ন হল, কাজের এই ব্যস্ত সূচির মাঝে 'হেরা ফেরি'-র কাজ কবে শুরু হবে এবং এর সব জটিলতাই বা কবে মিটবে? যদি সমস্যাগুলো দ্রুত মিটে যায়, তবে স্যার অবশ্যই ছবিটি করবেন। সেখানে ঠিক কী ঘটছে তা আমার জানা নেই, তবে এসব প্রতিবন্ধকতায় স্যার দমে যাওয়ার পাত্র নন। 'হেরা ফেরি'-র কাজ শুরু হওয়ার আগেই হয়তো তিনি আরও পাঁচটি ছবি বানিয়ে ফেলবেন।"
যখন ভক্তরা রাজু, শ্যাম এবং বাবুরাও-কে আবারও বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষায় অধীর হয়ে উঠেছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ করেই 'হেরা ফেরি ৩' আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ ভারতের এক প্রযোজক মাদ্রাজ হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করে প্রশ্ন তোলেন যে, আদৌ এই ছবিটি নির্মাণ করা সম্ভব কিনা। তিনি দাবি করেন যে, ছবিটির প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার কাছে এখন আর এই ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্ব বা অধিকার অবশিষ্ট নেই।