
১৯৯০ সালের 'আশিকি'-ছবির মাধ্যমে রাতারাতি তারকা হয়ে উঠেছিলেন। মহেশ ভাটের ছবিতে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে তিনি যেন অনেকটাই হারিয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই রাহুলকে কোনও ছবিতে দেখা যাচ্ছে না। তাঁকে ২০২৩ সালে 'আগ্রা' ছবিতে শেষ দেখা গিয়েছিল। এই ছবি কান চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছিল। এরপর থেকে চলচ্চিত্র জগত থেকে দূরেই আছেন অভিনেতা। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একজন 'ইনফ্লুয়েন্সার'-র সঙ্গে একটি রোম্যান্টিক ভিডিও তৈরি করতে দেখা যায় তাঁকে; যা অনুগামীদের মনে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গত বেশ কয়েক বছরে তিনি এমন কোনও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাননি রাহুল রায়। ফলস্বরূপ নয়ের দশকের অন্যান্য তারকাদের মতো প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকতে পারেননি। আর ঠিক এই কারণেই 'জেন জি'-দের বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি এখন অনেকটাই অপরিচিত।
'আশিকি' ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর তাঁকে ঘিরে অনুগামীদের মধ্যে যে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা কারও অজানা নয়। 'আশিকি'-র সাফল্যের পরই, রাহুল মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে ৪৭টি ছবিতে অভিনয়ের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। অবশ্য, সেই ছবিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি বা মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
রাহুল রায় তাঁর প্রথম ছবি 'আশিকি'-র জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে ৩০,০০০ টাকা পেয়েছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি নিজেই এই তথ্যটি প্রকাশ করেছিলেন। মহেশ ভাট মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর ছবিতে অভিনয়ের জন্য রাহুলকে চুক্তিবদ্ধ করেছিলেন। ছবিটিকে বক্স অফিসে সুপারহিট করার লক্ষ্যে নির্মাতা একটি অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। দর্শকদের মনে কৌতূহল জাগিয়ে তোলার জন্য তিনি এই ছবির সমস্ত পোস্টারে রাহুল রায় এবং নায়িকা অনু আগরওয়ালের মুখ আড়াল করে রেখেছিলেন। নির্মাতারা ছবি মুক্তির আগেই গানগুলো প্রকাশ করে দিয়েছিলেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই সুপারহিট হয়ে যায়। এই সবকিছুর সম্মিলিত সুফল পেয়েছিল ছবিটি, আর রাহুল রায় রাতারাতি একজন তারকা হয়ে ওঠেন।
প্রথম ছবি বক্স অফিসে সুপারহিট হয়েছিল
১৯৯০ সালের ২৩ জুলাই মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'আশিকি' বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে মোট ৫ কোটি টাকা (যা প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য) আয় করেছিল। বর্তমান বাজারমূল্যে এই আয়ের পরিমাণ ৬০ থেকে ৮৫ কোটি টাকার (প্রায় ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সমান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই চলচ্চিত্রটির নির্মাণ বাজেট ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা (যা প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতুল্য)। পরবর্তীতে রাহুল রায়, মহেশ ভাটের বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন এবং একের পর এক জনপ্রিয় গান উপহার দেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর তারকাখ্যাতি ম্লান হয়ে যায়। ২০২০ সালে কার্গিলে শ্যুটিং করতে গিয়ে ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল তাঁর। তার পরে দীর্ঘ দিনের বিরতি। ধীরে ধীরে কাজে ফেরেন অভিনেতা রাহুল। তবে বর্তমানে কাজ পেতে তাঁকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তাঁকে এমন অবস্থায় দেখে অনুগামীরা গভীরভাবে মর্মাহত।