
বলিউডের সবচেয়ে সুন্দরী, প্রতিভাবান এবং অভিজ্ঞ অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন রেখা। বি-টাউনের এত বড় নাম, এদিকে ব্যক্তিগত জীবনে এখনও রহস্য রয়ে গেছে। বিনোদন জগতে শোনা যায়, রেখা তাঁর কেরিয়ারে যতটা খ্যাতি পেয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সমান কষ্ট পেয়েছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সিঁদুর পরে উপস্থিত হওয়ার কারণে সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছেন রেখা।
স্বামীর মৃত্যুর পরেও, বিবাহিত হিন্দু নারীদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই প্রথাগত চিহ্নটি রেখা আজও ধারণ করে চলেছেন। স্বামীর মৃত্যুর ৩৬ বছর পরেও রেখার সিঁদুর পরার এই সিদ্ধান্ত বলিউডের অন্যতম বড় এক রহস্য হিসেবেই রয়ে গেছে। অভিনেত্রীর এই ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের পেছনের কারণ কী এবং তিনি কেন আজও এটি অব্যাহত রেখেছেন?
হিন্দু ঐতিহ্যে সিঁদুরের তাৎপর্য
হিন্দু ঐতিহ্যে, বিবাহিত মহিলারা তাঁদের সিঁথিতে সিঁদুর পরেন। এটি বিবাহিত অবস্থার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। বিয়ের সময় বরের, কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈবাহিক আচার।
রেখার বৈবাহিক জীবন
অভিনেত্রী রেখা দিল্লির শিল্পপতি ও টিভি প্রযোজক মুকেশ আগরওয়ালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়, কিন্তু তাঁদের এই সম্পর্ক মাত্র সাত মাস স্থায়ী হয়েছিল। মুকেশ আগরওয়াল যখন আত্মহত্যা করেন, তখন রেখা লন্ডনে ছিলেন।
রেখা কেন সিঁদুর পরেন?
১৯৮২ সালের জুন মাসে, যখন রেখা 'উমরাওজান' ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করেন, তখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, 'আপনি কেন সিঁথিতে সিঁদুর পরেন?' উত্তরে রেখা বলেছিলেন, "আমি যে শহর থেকে এসেছি, সেখানে সিঁদুর পরাটা বেশ 'ফ্যাশনেবল' বা আধুনিক একটি বিষয়।" এটি ছিল তাঁর বিয়ের আগের ঘটনা। কিন্তু ১৯৯০ সালে স্বামী মুকেশ আগরওয়ালের মৃত্যুর পরেও রেখাকে সিঁদুর পরতে দেখা গেছে।
২০০৮ সালে 'হিন্দুস্তান টাইমস'-কে রেখা বলেছিলেন, "মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমি মোটেও ভাবি না। আমার মনে হয়, সিঁদুর আমায় বেশ মানায়...সিঁদুর পরলে আমাকে ভাল দেখায়।"
অমিতাভের সঙ্গে কি সুসম্পর্ক রয়েছে?
২০২৫ সালের মার্চ মাসে, চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদ হানিফ জাভেরি দাবি করেন যে-রেখা, যাঁর নাম প্রায়শই অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে জড়িয়ে আলোচিত হয়েছে—তাঁর মনে অমিতাভের জন্য আজও একটি বিশেষ দুর্বলতা বা কোমল অনুভূতি রয়ে গেছে। হানিফ বলেন, "সেখানে এক ধরণের কোমলতা বা গভীর অনুভূতি কাজ করে। অমিতাভ বচ্চনের জীবনে যদি কোনও অঘটন ঘটে, তবে রেখা মনে করেন যে এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। একইভাবে, রেখার জীবনে যদি কোনও দুঃসময় আসে, তাহলে অমিতাভও মনে করেন যে এটা ঘটা ঠিক হয়নি। এটি আসলে এক গভীর মানসিক টান বা সংযুক্তি।"