
বৃহস্পতিবার সকাল সকাল খারাপ খবর। প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। গোয়াতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এখন প্রশ্ন হল, কীভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পডলেন তিনি? কী হয়েছিল তাঁর? ইতিমধ্যেই এই বিষয়টা কিছুটা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আসুন গোটা ঘটনাটা জেনে নেওয়া যাক।
কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তাঁর?
এই বিষয়টা সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু রিপোর্ট সামনে এসেছে। জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার বাড়িতে নানা পাটেকরের তীব্র বুকে ব্যথা হয়। সেই খবর যায় হাসপাতালে। খবর পাওয়ার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাঁর ফ্ল্যাটে পাঠানো হয় একটি মেডিক্যাল টিম। ফ্ল্যাটে পৌঁছে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
এরপর নানাকে বাঁচাতে কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দেওয়া হয়। এমনকী নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে খরর।
আরও জানা যাচ্ছে, হাসপাতালে তাঁকে বাঁচানোর প্রচুর চেষ্টা করা হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বাঁচানোর চেষ্টা চলে তাঁকে। দেওয়া হয় সিপিআর। কিন্তু চিকিৎসকরা সফল হননি। এরপরই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু নানা পাটেকর হাসপাতালের ওই রোগী ছিলেন না, তাই নিয়ম অনুযায়ী পুলিশকে খবর দিতে হয়েছে। যদিও পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার আগে ময়নাতদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর দেহ গোয়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন চিকিৎসক শেখর। তিনি জানিয়েছেন, প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর আজ ভোর ৫টা ২০ মিনিটে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হওয়ার পর প্রয়াত হন। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে লাগাতার সিপিআর দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এরপরই লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁর ময়নাতদন্ত করা হবে।
নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া ভারতের সিনে প্রেমীদের মনে। এই বর্ষীয়ান অভিনেতার ঝুলিতে রয়েছে একের পর এক হিট হিন্দি এবং মারাঠি ছবি। পরিন্দা, ক্রান্তিবীর, অব তক ছপ্পনের মতো ফিল্মে অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসাবে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। ২০১৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মান দেওয়া হয়। আর ৭৫ বছর বয়সে আজ প্রাণ হারালেন তিনি।