
চেক বাউন্স মামলায় জড়িয়ে পড়া বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব দেনার টাকার কিছুটা অংশ শোধ দেবেন। আজ অর্থাত্ বুধবার ১.১৫ কোটি টাকার একটি ডিমান্ড ড্রাফট হাতে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাজির হন রাজপাল যাদব। তিনি বাকি ৮৫ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার জন্য ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। রাজপাল ‘আতা পাতা লপাতা’ ছবিতে টাকা ডুবে যাওয়ার ঘটনা টেনে বিচারপতির কাছে তার দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
আবেগে গলা ধরে এল রাজপাল যাদবের
বিচারপতি ব্যঙ্গ করে রাজপাল যাদবকে এদিন বললেন, 'আপনার সিনেমার মতোই আপনার টাকাও উধাও, কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।' রাজপাল হতাশ হয়ে আদালতে বললেন, 'আমি মানুষকে বিনোদন দিতে গিয়ে নিজেই একটি নাটকে পরিণত হয়েছি।' প্রধান বিচারপতি জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কি কোনও সিরিয়াল বানাচ্ছেন, নাকি সিনেমা, অথবা শুধু উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন? আদালতে হাজির হয়ে রাজপাল যাদব বলেন, 'আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এই ছবিতে আমার ১৭ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। এই লোকেরা গত ১৩ বছর ধরে আমার সিনেমা বানাতে দেয়নি। তারা একটি স্থগিতাদেশ নিয়েছিল। প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে, তারা নিজেদের ৫ কোটি টাকার জন্য আমার ২২ কোটি টাকার লোকসান করিয়েছে।'
'ওরা আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে'
এর পরেই আবেগতাড়িত দেখা গেল রাজপালকে। বললেন, 'প্রথমে ওরা আমাকে বলেছিল আমি নাকি ১০০ কোটি টাকার মালিক। তারপর আমাকে আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল। আমি বছরের পর বছর ধরে মানুষকে বিনোদন দিয়ে এসেছি। এখন আমি নিজেই একটা নাটকে পরিণত হয়েছি। আমি ২০০টা ছবিতে কাজ করেছি, আর ওরা আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। এখন আবার কাজ পাচ্ছি। আমি ওদের টাকা তুলে দেব।'
প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, 'কিছু ভাল সিনেমা বানান এবং মানুষকে বিনোদন দিন।' আবেদনটির শুনানি করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনাকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অভিনেতাকে দুই সপ্তাহের সময় মঞ্জুর করেছে। এই সময়ের মধ্যে রাজপাল যাদব টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন।
চেক বাউন্সের পুরো বিতর্কটা কী?
অভিনেতা রাজপাল যাদবের বিরুদ্ধে চলা এই মামলা মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি চেক বাউন্স মামলাকে কেন্দ্র করে। মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট রাজপাল যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিটি অভিযোগে তিন মাস করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাজপাল। শেষ শুনানিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। আদালত জানায়, বারবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাজপাল নির্ধারিত অর্থ জমা দেননি।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করে বলেন, অভিযোগকারী যাতে অন্তত কিছু অর্থ ফেরত পান, তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই আদালত রাজপাল যাদবকে আরও একটি সুযোগ দিচ্ছে। তা না হলে সাজা সংক্রান্ত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হত বলেও জানায় সুপ্রিম কোর্ট।