
শিরোনামে সারা আলি খান। মন্দির থেকে মসজিদ সব জায়গাতেই যান সারা। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। বাবা সইফ আলী খান মুসলমান। অন্যদিকে মা অমৃতা সিং হিন্দু। সারা তাঁর পুরো নাম লেখেন সারা আলি খান। বহুবার পদবী হিসাবে 'আলি খান' ব্যবহার করা এবং সেই সঙ্গে মন্দিরে যাওয়ার জন্য ট্রোল হয়েছেন। সম্প্রতি এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে তাঁর সঙ্গে।
'সনাতনী' হওয়ার প্রমাণ
উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রা শুরু হচ্ছে আগামী ১৯ এপ্রিল। বদ্রিনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটিতে (BKTC) বর্তমানে এই যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ততা চলছে। এরই মধ্যে, BKTC-এর সভাপতির একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গত ১৭ মার্চ, চারধাম যাত্রার প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে BKTC-র সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে সাংবাদিকরা তাকে 'অ-সনাতনী'দের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
জবাবে তিনি জানান যে, সমস্ত সনাতনীরাই সেখানে স্বাগত। কিন্তু যারা সনাতনী নয় বা হিন্দু নয়, সেসব মানুষদের মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। যারাই সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী, তারাই সনাতনী হিসেবে গণ্য হবেন। তিনি প্রসঙ্গক্রমে সারা আলি খানের নামও উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, মন্দিরে প্রবেশের জন্য এই অভিনেত্রীকে একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। যেখানে তাঁকে নিজেকে একজন সনাতনী হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। শুধুমাত্র এরপরই তাঁকে মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। হেমন্ত বলেন, "যদি সারা আলি খানও দাবি করেন যে সনাতন ধর্মের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও অনুরাগ রয়েছে এবং তিনি আমাদের কাছে একটি হলফনামা জমা দেন, তবে আমরা তাঁকে দর্শনের অনুমতি দেব।"
তীব্র ভর্ৎসনা কংগ্রেসের
এই ইস্যুতে কংগ্রেসের মুখপাত্র সুজাতা পাল, হেমন্ত দ্বিবেদী এবং বিজেপি-র তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, "বাবা কেদার এবং তার ভক্তদের মাঝে এসে দাঁড়ানোর সাহস আপনারা কীভাবে পেলেন? আপনারা সারা আলি খানের ভক্তির প্রমাণ হিসাবে হলফনামা দাবি করবেন? হেমন্ত দ্বিবেদী, আপনি তো নিজেই বহিরাগত। যদি মুখতার আব্বাস নকভি বা শাহনওয়াজের মতো বিজেপির বরিষ্ঠ নেতারা বাবা কেদার দর্শনে যেতে চান, তবে কি আপনারা তাঁদের কাছেও হলফনামা দাবি করবেন? আপনারা কি বিহারের প্রাক্তন রাজ্যপাল মোহাম্মদ আরিফ খান এবং বর্তমান রাজ্যপালের কাছেও হলফনামা চাইবেন—যাদের ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং গাড়োয়াল রাইফেলসে দীর্ঘ সেবার ইতিহাস রয়েছে?"
গত বছর সারা চারধাম যাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। সেই তীর্থযাত্রার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও তিনি তাঁর ইনস্টা পেজে শেয়ার করেছিলেন। সারার চারধাম যাত্রা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, BKTCএর সভাপতি সেই হলফনামার প্রসঙ্গটিই পুনরায় উল্লেখ করেন। ১৯ এপ্রিল, অক্ষয় তৃতীয়র শুভ তিথিতে গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী মন্দিরের দ্বার উন্মোচিত হবে। এরপর ২২ এপ্রিল কেদারনাথ এবং ২৩ এপ্রিল বদ্রিনাথ মন্দিরের দ্বার খোলা হবে।
চারধাম তীর্থযাত্রার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দেরাদুনে 'বদ্রিনাথ-কেদারনাথ কমিটি' একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। হেমন্ত দ্বিবেদী জানান যে, আসন্ন চারধাম যাত্রার প্রস্তুতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত ৬ লক্ষেরও বেশি ভক্ত এই যাত্রার জন্য নিবন্ধন করেছেন। একটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন তীর্থযাত্রা নিশ্চিত করতে ১২১ কোটি টাকারও বেশি অর্থের বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। সনাতন নয়, এমন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার একটি প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তীর্থস্থানগুলোতে নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করার নির্দেশও জারি করা হয়েছে।