'আহা ভূত, বাহা ভূত, কিবা ভূত, কিম্ভূত...'
বাংলা সংস্কৃতির ইতিহাসে ভূতদের এমন ছন্দময় মিছিল আর দ্বিতীয়টি নেই। এই পঙ্ক্তিগুলি লিখেছিলেন কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়। তাঁর সৃষ্ট ভূতেরা ভয়ঙ্কর নয়, বরং রসিক, অদ্ভুত আর কল্পনাময় এক জগতের বাসিন্দা। সেই জগতই প্রাণ পেয়েছিল তাঁর কালজয়ী ছবি গুপি গাইন বাঘা বাইনে, বিশেষ করে অমর গান ভূতের রাজ দিল বর-এ। বহু বছর পর, সেই পরিচিত ছন্দ যেন নতুন করে ফিরে এল বলিউডের এক গানে। সদ্য মুক্তি পেয়েছে 'ভুত বাংলা' ছবির গান ‘রামজি আকে ভালা করেঙ্গে’। সেখানে শোনা যাচ্ছে,
'কালা ভূত, গোরা ভূত
লম্বা ভূত, ছোটা ভূত...'
শব্দের বিন্যাস, তাল, ছন্দ, সব মিলিয়ে অনেকের কাছেই এটি মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই চেনা “আহা ভূত, বাহা ভূত”-এর আবহ। ফলে তুলনাটা এড়ানো কঠিন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয় সন্দীপ রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, গানটি এখনও শোনা হয়নি। তবে বিষয়টা শুনেছি। ছবির প্রযোজক পূর্ণিমা দত্ত। তাঁদের কাছে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কী না, আমার কাছে খবর নেই।'
এই নতুন গানের সুরকার প্রীতম চক্রবর্তী। কথায় কুমার, কণ্ঠে আরমান মালিক ও আরভান। প্রীতম নিজে বাঙালি এবং সংগীতের নানা ধারার সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত। ফলে সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির সঙ্গে তাঁর পরিচয় নেই, এমনটা ভাবা কঠিন। মিলটি নিছক কাকতালীয়, না কি অবচেতন প্রভাব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। যদিও এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
এ ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও প্রীতমের সুর নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। বাংলা ব্যান্ড মহিনের ঘোড়াগুলির ‘পৃথিবীটা নাকি’ এবং বলিউডের ‘ভিগি ভিগি রাত’-এর সুরে মিল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আবার ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি ছবির জনপ্রিয় গান ‘বদতমিজ দিল’-এর সঙ্গেও অঞ্জন দত্তের ‘রঞ্জনা আমি আর আসব না’-র আবহের তুলনা টানা হয়েছিল সংগীতপ্রেমীদের একাংশের তরফে।
ভূত বাংলা ছবিটি হরর-কমেডি ঘরানার, যেখানে ভয় আর হাস্যরস মিলেমিশে রয়েছে। এই ধরনের ছবিতে সংগীতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন সেই সংগীতে অন্য এক কিংবদন্তির ছায়া স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তখন তা আর নিছক বিনোদন থাকে না, আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।