
বলিউড অভিনেতা অনুপম খের (Anupam Kher) চলচ্চিত্র জগতে একজন অপ্রতিরোধ্য অভিনেতা। তিনি জীবনে কখনও পিছনে ফিরে তাকাননি। কিন্তু বহিরাগত হওয়ায় কাজ পেতে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে ৩ বছর অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন। তারপরে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বই আসেন। কিন্তু মুম্বইয়ে কেরিয়ারের শুরুর দিকে অনুপম খেরকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। বহুবার অনুপম তার কেরিয়ারের সংগ্রাম নিয়ে কথা বলেছেন।
সংগ্রামের পর সাফল্য
অনুপম খের ৭ মার্চ, ১৯৫৫ সালে সিমলায় জন্মগ্রহণ করেন। এই অভিনেতার মন পড়াশোনায় খুব একটা লাগত না এবং তিনি শৈশবে লাজুকও ছিলেন। তবে স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার শখ ছিল। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা থেকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর অনুপম খের যখন মুম্বই আসেন, প্রথম কয়েক মাস তাঁর জন্য খুব কঠিন ছিল। এক মাস তাঁকে রেল প্ল্যাটফর্মে ঘুমাতে হয়েছে। পকেট সম্পূর্ণ খালি। পেটে ছিল না খাবার। তাঁকে বার বার রিডেকশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি ২৯ বছর বয়সে তার প্রথম চলচ্চিত্র সারাংশ-এ অভিনয় করেন। এই ছবিটি পেতেও তাকে যথেষ্ট লড়াই করতে হয়েছে। মহেশ ভাটের সঙ্গেও তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। আসলে মহেশ ভাট এই সিনেমা তৈরি করছিলেন, যেখানে একজন ৭০ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত অফিসারের ভূমিকায় অভিনেতা খুঁজছিলেন, যিনি তার ছেলের মৃত্যুর পরে তার ছাই সংগ্রহ করতে ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়ান। এই চরিত্রে অনুপম খেরের নাম চূড়ান্ত করা হয়। অনুপম খেরের চুল ছোটবেলায় পড়ে গিয়েছিল তাই তিনি এই ভূমিকাটি সহজেই পেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অনুপম খেরের কাছ থেকে সেই ভূমিকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
প্রথম ছবির জন্য মহেশ ভাটের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল
মহেশ ভাট চেয়েছিলেন এই চরিত্রে সঞ্জীব কুমারের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা অভিনয় করুক। সঞ্জীব শোলে, আঁধি এবং মৌসম-সহ অনেক ছবিতেও এই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। কিন্তু অনুপম মহেশ ভাটের এই কথা বুঝতে পারেননি এবং তিনি মহেশ ভাটকে অনেক কথা বলেন। পরে মহেশ ভাট তার ভুল বুঝতে পেরে অনুপম খেরকে এই ভূমিকা ফিরিয়ে দেন। ছবিটি ভালোই চলছিল এবং অনুপম খেরের অভিনয় সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছিল। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই অভিনেতাকে। কাজ করেছেন পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে। আজ তিনি বলিউডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। এখন তাঁর কথা মাথায় রেখে বিশেষ চরিত্র লেখা হয়। শুধু বলিউড নয়, অনেক ইংরেজি সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে।