
হৃতিক রোশন আর কঙ্গনা রানাউত। বলিউডের বিতর্কিত অধ্যায়ের চর্চিত দুই চরিত্র। এক সময়ে দুই তারকার বিবাদ চরমে পৌঁছেছিল। হৃতিকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন কঙ্গনা। শুরু থেকেই সে সব অস্বীকার করেছেন রাকেশপুত্র। তবে এক দশক পার করে কঙ্গনা-হৃতিকের সেই পুরনো বিতর্ক যেন আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল!
হৃতিক-কঙ্গনা কলহ আবার শুরু?
নতুন করে ঝগড়ার সূত্রপাত নেটমাধ্যমের একটি ট্রেন্ডিং কীওয়ার্ডে। 'Sorry Hrithik' বা দুঃখিত হৃতিক ট্রেন্ড হতে শুরু করে সোশ্যালে। যার নিশানায় কঙ্গনা। আসলে দিল্লির যন্তরমন্তরে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ‘জেন জি’দের উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ। তারপরই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিম তৈরি হতে শুরু করে। সেই সূত্র ধরেই এক দল অনুরাগী হৃতিকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁদের দাবি, অভিনেতার কাছে সকলের ক্ষমা চাওয়া উচিত। উঠে আসে দু'জনের পুরনো আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গও। এই ট্রেন্ড নজর এড়ায়নি হৃতিকের। তিনি প্রতিক্রিয়া জানাতেই আগুনে ঘি পড়ে! আবেগপ্রবণ না হয়ে আসল ইস্যুর দিকে নজর দেওয়ার আর্জি জানান হৃতিক।
এক ইনফ্লুয়েন্সারের পোস্টে মন্তব্য করে হৃতিক লেখেন,'শুধুমাত্র ‘B’-কে আর পছন্দ নয় বলে ‘A’-এর পক্ষ নেওয়া, আমাদের সমাজব্যবস্থার এক মস্ত বড় সমস্যার ছোট্ট ইস্যু। সঠিক সময় এলে তথ্যনির্ভর আলোচনার করব। সেটাই সঠিক পথ হবে। কিন্তু এখন আর কারই বা এ সব নিয়ে মাথাব্যথা আছে, তাই না?'
কঙ্গনার গোঁসা
আর কী! হৃতিকের জবাবে ফুঁসে ওঠেন কঙ্গনা। যথারীতি জবাব দিয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে হৃতিকের উদ্দেশে কঙ্গনা লেখেন,'প্রিয় হৃতিক, তুমি তোমার সঠিক সঙ্গী খুঁজে পেয়েছ দেখে আমার সত্যিই ভাল লাগছে। সাবা আজাদের সঙ্গে তোমাকে খুব সুন্দর মানায়। তোমরা এক জন আর এক জনের সঙ্গে গভীর সম্পর্কে রয়েছ, তাই এভাবে অন্য কোনও নারীকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা বা খোঁচা দেওয়া তোমার শোভা পায় না'।
অভিনেত্রী আরও যোগ করেন,'তোমার নাম নিয়ে যারা আমাকে হেনস্থা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত। আগুনে ঘি না ঢেলে নিজের পার্টনারকে অস্বস্তিতে ফেলা বন্ধ করো। আশা করি তুমি বুদ্ধিমানের মতো কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অহেতুক মন্তব্য করবে না'।
কঙ্গনা-হৃতিক বিতর্কটা কী?
২০১৬ সাল নাগাদ এক সাক্ষাৎকারে হৃতিককে প্রকাশ্যে বোকা প্রাক্তন বলে মন্তব্য করেছিলেন কঙ্গনা। তারপরেই সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে পাল্টা মুখ খোলেন অভিনেতা। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে কঙ্গনাকে আইনি নোটিসও পাঠান হৃতিক। জবাবে কঙ্গনাও হৃতিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করে দাবি করেন, অভিনেতা তাঁদের সম্পর্কের কথা গোপন করতে চাইছেন।
বিবাদ গড়ায় পুলিশ পর্যন্ত। বেশ কয়েক বছর পর তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, কঙ্গনার দাবির পক্ষে কোনও সত্যতা মেলে না।
তবে এই বিতর্কের জেরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হৃতিকও। তাঁর তারকা-ইমেজ নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এত সব কিছুর পরেও কিন্তু মুখ খোলেননি অভিনেতা। তাই বহু বছর পর আজ নেটমাধ্যমে সাধারণ মানুষ বলছেন, হৃতিকের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এখন দেখার, 'Sorry Hrithik' ট্রেন্ডের জল কত দূর গড়ায়!