Advertisement

প্রমিস করেছি আমি আর কিছু নিয়ে অভিযোগ করব না: তুহিনা

সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নতুন বাংলা ওয়েব সিরিজ দময়ন্তী। মহিলা গোয়েন্দার চরিত্রে দেখা যাবে তুহিনা দাসকে। এদিন দময়ন্তীর দ্বিতীয় সিজনের শুটিংয়ের মাঝে টেলিফোনে আড্ডা হল অভিনেত্রীর সঙ্গে। 

দময়ন্তীর দ্বিতীয় সিজনের শুটিংয়ের মাঝে টেলিফোনে আড্ডা তুহিনার সঙ্গে, ফোটো- নিজস্ব চিত্রদময়ন্তীর দ্বিতীয় সিজনের শুটিংয়ের মাঝে টেলিফোনে আড্ডা তুহিনার সঙ্গে, ফোটো- নিজস্ব চিত্র
দেবস্মিতা দাস
  • কলকাতা ,
  • 28 Oct 2020,
  • अपडेटेड 5:48 PM IST
  • ''এতদিন পর ফ্লোরে ফেরা, চেনা জীবন, ভাল লাগার কাজে ফিরতে পারা এটাই একটা বড় রিফ্রেশমেন্ট''
  • ''শান্তিনিকেতনে একটাই আউটডোর হয়েছিল, ভোর চারটে অবধি শ্যুট হত। আবার সকাল ১০টায় কল।''
  • ''লকডাউন যত বাড়ছিল অধৈর্য হয়ে পড়ছিলাম। প্রফেশন নিয়েও চিন্তা বাড়ছিল। সব মিলিইয়ে আর পেরে উঠছিলাম না।''

পুজোর আগে শুটিং শেষ করার তাড়া, তার উপর প্রমোশন। সব মিলিয়ে বেজায় ব্যস্ত দময়ন্তী থুড়ি তুহিনা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নতুন বাংলা ওয়েব সিরিজ দময়ন্তী। মহিলা গোয়েন্দার চরিত্রে দেখা যাবে তুহিনা দাসকে। এদিন দময়ন্তীর দ্বিতীয় সিজনের শুটিংয়ের মাঝে টেলিফোনে আড্ডা হল অভিনেত্রীর সঙ্গে। 

করোনার নিয়মের ফাঁসে কতটা টাইট শিডিউলে কাজ করতে হচ্ছে? দম ফেলার সময় 
পাচ্ছেন?

(হেসে) না নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় সত্যিই নেই। তবে একটা কথা বলব মার্চ থেকে কোভিড নামের আতঙ্ক জীবনে এসেছে। তাই এতদিন পর ফ্লোরে ফেরা, চেনা জীবন, ভাল লাগার কাজে ফিরতে পারা এটাই একটা বড় রিফ্রেশমেন্ট। আমার মনে আছে আমি যখন দময়ন্তীর শুটিং ফ্লোরে গিয়েছিলাম তখন আমার কাছে এক চলতে রোদ্দুরের মত মনে হয়েছিল। বহু দিন কিছু ফিরে পাওয়ার মত আনন্দ। 

একইসঙ্গে দময়ন্তী ১-এর প্রোমোশন, সিজন টু এর শুটিং, সামলাতে পারলেন?

ওহ মাই গড! প্রোমোশন, শুটিং আবার ডাবিংও ছিল। বুঝতে পারছেন তো কী অবস্থা। (হেসে)। তবে কোভিডের সময় নিজেকে প্রমিস করেছিলাম আমি আর কিছু নিয়ে অভিযোগ করব না। করোনা অনেক কিছু শিখিয়েছে। যদি প্রতিদিন এইভাবে কাজ করে যেতে হয় আমি খুশি মনেই করব। সেটাই করছি। 

যখন সিজন ওয়ান করছিলাম শান্তিনিকেতনে একটাই আউটডোর হয়েছিল, ভোর চারটে অবধি শ্যুট হত। আবার সকাল ১০টায় কল। শারীরিকভাবে ক্লান্ত লাগলেও মানসিক ক্লান্তি কোনওদিন আসেনি। 

শুটিংয়ের ফাঁকে তুহিনা। ফোটো- তুহিনার ইনস্টাগ্রাম সৌজন্যে

প্রথম গোয়েন্দা চরিত্র, এত গোয়েন্দাদের ভিড়ে নতুন। কেমন লাগল চরিত্রটি করে?

হ্যাঁ, এটা আমার প্রথম গোয়েন্দা চরিত্র। 

প্রথমত এটা একটা অ্যামেজিং থ্রিলিং বিষয়। বাঙালিরা একাত্ম হতে পারে। ফেলুদা চরিত্র দেখতে আমার মতো দর্শকরাও কখনও শ্রান্ত হয় না বোধহয়। গোয়েন্দা নিয়ে ভালবাসাটা বহুযুগ থেকে চলে আসছে আর চলবেও। 
আর দময়ন্তী কিন্তু প্রফেশনাল গোয়েন্দা নয় (হাসি)। ইতিহাসের প্রফেসর, রহস্য সন্ধানের কাজ ভালবেসে করে। 

Advertisement

দময়ন্তী চরিত্রটি করতে কেন রাজি হলেন? 

দময়ন্তী চরিত্রটিকে না বলার কোনও কারণই নেই। কারণ এটা গোয়েন্দা চরিত্র। আমি নিজে দর্শক হিসেবে ভীষণ গোয়েন্দা ভক্ত। তাই না বলার কোনও কারণ নেই। তাছাড়া দময়ন্তী অসাধারণ একটা চরিত্র, অনেক লেয়ার রয়েছে। অন্যরকম তো বটেই। আগে যে সব চরিত্র করেছি তেমন নয়। 

বাংলায় মহিলা গোয়েন্দা সেভাবে কোথায় বলুন! তাছাড়া এত ভাল ফ্র্যাঞ্চাইজি না বলব কেন? আর আরেকটি বিষয় হল এখানে দু'জন পরিচালক। এদের আগের কাজটিও মহিলা চরিত্রকেন্দ্রিক। কাজটা এঁরা জমিয়ে করেন। বলতে পারেন আমার জন্য এটি একটি লোভনীয় অফার। 

দময়ন্তীর শ্যুটিংয়ে তুহিনা ও ইন্দ্রাশিস। নিজস্ব চিত্র

প্রথম সিরিজ রিলিজ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় সিজনের কাজ শুরু। দর্শকদের ভাল লাগবেই এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এগোচ্ছেন তাহলে?

হ্যাঁ ভাল না গেলে উপায় নেই। এইটুকু আত্মবিশ্বাস আছে। যদি সবটা মিলিয়ে বলো স্ক্রিপ্ট, মেকিং তো রয়েইছে, এছাড়াও ভাল ভাল পারফর্মাররা রয়েছেন, তাই সব মিলিয়ে দর্শকদের ভাল কিছুই দিতে পারব এটা বিশ্বাস। শুধু আমার নয়, দময়ন্তীর সঙ্গে যুক্ত সকলের এটাই আশা। আমি যখন দময়ন্তী করি তখন চরিত্রের পাশাপাশি সিজন নিয়েও কথা হয়েছে। হঠাৎ করে হ্যাঁ করে বলা হয়নি যে পরের সিজনের শুট হবে। বলাই হয়েছিল সিরিজ ওয়ান ও টু করব। তাই আমরা আশা রাখছি। বাকিটা তো দর্শক বলবে। 

কোভিডের সময় এখানে ছিলে না বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন?

প্রথমে এখানেই ছিলাম কিন্তু পরে বাড়ি চলে যাই। আসলে মার্চে যখন লকডাউন হল তখন ভেবেছিলাম এটা মাসখানেকের বিষয়। কাজ নেই, খাওয়াদাওয়া করব, ঘুমাবো, নেটফ্লিক্স-প্রাইম দেখব, আর আমি রান্না করতে ভালবাসি ভাল ভাল রান্না করব। মোট কথা এতদিন বিভিন্ন অজুহাতে যে কাজ করতে পারিনি সেটাই করব। 

প্রথমে এটাই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু লকডাউন যত বাড়ছিল অধৈর্য হয়ে পড়ছিলাম। প্রফেশন নিয়েও চিন্তা বাড়ছিল। সব মিলিইয়ে আর পেরে উঠছিলাম না। রাতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে পরেদিন এখান থেকে জাস্ট হাওয়া হয়ে গিয়েছিলাম।

Read more!
Advertisement
Advertisement