
ছোটপর্দার হার্টথ্রব আদৃত রায়। তিনি পর্দায় আসা মানেই তাঁর ম্যাজিক শুরু হয়ে যায়। এমনিতে স্বল্পভাষী নায়ক খুব একটা নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলসা করে কিছুই বলতে চান না। সবটাই তাঁর আড়ালে থাকে। তবে সম্প্রতি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে বড় কথা জানিয়েছেন আদৃত। যে কারণে তাঁকে বেশ কয়েক মাস ছোটপর্দা থেকে তাঁকে দূরে থাকতে হয়েছিল। কী হয়েছিল উচ্ছেবাবুর?
কেন বিরতিতে ছিলেন আদৃত?
বড়পর্দা থেকে কেরিয়ার শুরু হলেও ছোটপর্দায় একের পর এক সিরিয়াল করে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে আদৃত। 'মিঠাই', 'মিত্তির বাড়ি'র পর এখন তাঁকে দেখা যাবে 'কুমকুম' ধারাবাহিকে। ছোটপর্দার সফল নায়ক আদৃত। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় কাজ শুরু করেন আদৃত। কিন্তু কোন মাধ্যমে অভিনয় করছেন, সেটা কখনও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এখন কুমকুম ধারাবাহিক নিয়ে ব্যস্ত অভিনেতা। আর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা জানিয়েছেন তিনি কেন লম্বা সময় ধরে বিরতিতে ছিলেন?
১২দিন আইসিইউ-তে
আদৃত এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে তিনি টানা ১২দিন আইসিইউ-তে জীবন মৃত্যুর মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন আর সেখান থেকে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন। টেলিভিশনের পর্দায় একটি ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পর আদৃত হঠাৎ কাজ থেকে বেশ কিছুদিন বিরতি নিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকারে আদৃত জানান যে মিঠাই ধারাবাহিক চলাকালীনই কাজের চরম চাপ ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে শ্যুটিং করার ফলে অভিনেতার পায়ে একটি ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে সাধারণ চোট মনে করে বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু আসল বিপর্যয় ঘটে যখন তিনি ‘মিত্তির বাড়ি’র শ্যুটিং করছিলেন।
কী হয়েছিল অভিনেতার?
পায়ের ওই সমস্যা নিয়েই ক্রমাগত শ্যুটিং করে গিয়েছেন আদৃত। যার মাশুল তাঁকে পরে দিতে হয়। অভিনেতা জানান, পায়ে থাকা সেই ব্লাড ক্লটটি একসময় রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করে সরাসরি ওঁর ফুসফুসের ধমনীতে (Pulmonary Artery) গিয়ে আটকে যায়। এর ফলে ওঁর শ্বাস নিতে মারাত্মক কষ্ট শুরু হয় এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি চিকিৎসকের কাছে গেলে ডাক্তাররা অভিনেতার অবস্থা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান এবং তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন একটা দিন দেরি হলেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেত। জীবন বাঁচানো যেত না।
বিশ্রামে ছিলেন অভিনেতা
আদৃতকে টানা ১২দিন আইসিইউতে থাকতে হয়েছিল বলে জানান অভিনেতা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। আর এই কারণেই বেশ কিছুদিন ক্যামেরার সামনে থেকে দূরে বিশ্রামে ছিলেন অভিনেতা। প্রসঙ্গত, টানা শ্যুটিংয়ের কারণে একাধিক তারকাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার কথা নতুন নয়। এর আগেও অনেকে শ্যুটিং ফ্লোরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে আদৃত সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নতুন উদ্যমে ও নিয়মিতভাবে ‘কুমকুম’ মেগার শ্যুটিং সামলাচ্ছেন।