
তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হলেও দেব সব সময়ই অন্য তারকাদের থেকে একেবারেই উল্টো পথে হেঁটেছেন। রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার থাকলেও দেব বিজেপি ঘনিষ্ঠ তারকাদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করেছেন। তার জন্য তাঁকে মাঝে মধ্যেই নিন্দিত হতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাংলা ফিল্ম উন্ডাস্ট্রিতে ব্যান কালচারের উল্টোপথে হেঁটে তৃণমূলের অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের বিরাগভাজনও হয়েছিলেন। যদিও এইসব নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন দেব। আর তাই বিজেপি নেতাদের ভাল নজরেই ছিলেন অভিনেতা। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গিয়ে দেব নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে মন্তব্য করলেন।
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও দেবের বরাবরই প্রথম কাজের জায়গা তাঁর অভিনয়। আর সেই পেশাতেই দেব তাঁর বেশিরভাগ সময় দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন দেব। আর সেখানেই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সাংসদ দেব হাসতে হাসতেই বলেন, ভাল তো! মেদিনীপুর সব সময়ে এগিয়ে ছিল এবং আগামী দিনেও থাকবে। আসলে দেব ও শুভেন্দু দুজনেই মেদিনীপুরের, আর তাই দেব মেদিনীপুরের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন।
গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলফল সামনে আসার পর দেব জানিয়েছিলেন যে তিনি আর নিজেকে রাজনীতিতে খুব বেশি জড়াতে চান না। অভিনয়েই মন দিতে চান। দলের পরাজয় তাঁকে কষ্ট দিলেও, এই বদলকে অভিনেতা স্বাগত জানিয়েছিলেন। বিশেষত ইন্ডাস্ট্রির ‘ব্যান’ সংস্কৃতি নিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠু ভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে।” তবে পাশাপাশি এ-ও উল্লেখ করেছিলেন, “যদি তৃণমূল কংগ্রেসের করা ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
দেব বরাবরই নিজের ছন্দে এগোতেই পছন্দ করেন। ফেডারেশন বা স্ক্রিনিং কমিটির কোনও নিয়মে তাঁকে বেঁধে রাখা যেত না। অনির্বাণ ভট্টাচার্যের ওপর থেকে ব্যান তোলা নিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন দেব। বিশ্বাস ব্রাদার্সদের বিপক্ষেও গিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে দেবের চেষ্টা সফল হয়। কাজে ফেরেন অনির্বাণ। তাঁকে দেব-শুভশ্রীর দেশু ৭-এর দেখা যাবে। যার শ্যুটিংও শুরু হয়ে গিয়েছে। আসলে ইন্ডাস্ট্রিতে আরও ভাল কাজ করার দিকেই দেবের নজর।