
একুশ সালে করা 'রগড়ানি পোস্ট' করে বিপদে পড়ছিলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আইনজীবী জয়দীপ সেন। কিছুদিন আগে গড়িয়াহাট থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল স্বস্তিকাকে। এবার নিজেকে বাঁচাতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরমব্রত। শুক্রবার অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট। হাইকোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে আপাতত আগামী চার সপ্তাহের জন্য অভিনেতার বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্ত চলবে। অভিনেতাকেও সহযোগিতা করতে হবে সেই তদন্তে।
একুশের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর টুইটারে পরমব্রত পোস্ট করেছিলেন আজকে বিশ্ব রগড়ানি দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হোক। আর সেই পোস্টে হাসির ইমোজি দিয়ে সমর্থন করেন অভিনেত্রী স্বস্তিকাও। সেই মন্তব্যের জেরে গত বৃহস্পতিবার, ২১ মে গড়িয়াহাট থানায় পরমব্রতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। আইনজীবীর অভিযোগ অনুযায়ী, পরমব্রতর এই উস্কানিমূলক পোস্ট রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার সূচনা করে। এতে বিজেপি কর্মীদের হত্যা, বিজেপি মহিলা কর্মীদের ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানি এবং ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের করা হিংসার কথাও উল্লেখ করে।
শুক্রবার পরমব্রতের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন, এত দিন পরে ওই অভিযোগ কেন? ওই অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। ওই মন্তব্যের জন্য কারও ক্ষতিও হয়নি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ১০৯ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এমন এফআইআর খারিজ করা হোক। অবশেষে হাইকোর্ট নির্দেশ দিল যে এখনই পরমের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নয়। তবে তদন্ত চলবে। এর আগে গড়িয়াহাট থানায় ডেকে পাঠানো হয় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। প্রায় ১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই মামলাতেই এ বার শর্তসাপেক্ষে পরমব্রতকে রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট।
ঘটনাটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কারণ, পাঁচ বছর আগের একটি পোস্ট আজ নতুন করে টেনে এনেছে সেই উত্তাল সময়ের স্মৃতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা কয়েকটি শব্দ, রাজনৈতিক আবহ, এবং তার বহু বছর পর আইনি লড়াই— সব মিলিয়ে বিতর্ক এখন নতুন মোড়ে। তবে এখনও পর্যন্ত এই মামলাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় বা স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।