
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে SFI এবং ABVP-এর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে আরও একবার উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। বুধবার রাতে হওয়া সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী থেকে শুরু করে টলিপাড়ার চেনা মুখেরা। এইসব দিক থেকে আবার সবার চেয়ে এগিয়ে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির প্রতিবাদী অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। এমনিতে ঋদ্ধি বরাবরই যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে পিছুপা হন না। এবারেও যাদবপুর নিয়ে বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে মোক্ষম পাঠ দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি।
যাদবপুর নিয়ে শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে SFI ও ABVP সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ABVP-এর দাবি, এই ঘটনায় তাদের অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতির খবর পেয়ে এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। আর সেখানেই যাদবপুরের পরিস্থিতি নিয়ে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শর্বরীর বক্তব্য ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘নকশাল, মাওবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি’ দিয়ে ভরিয়ে রাখা চলবে না। পাশাপাশি সিপিআইএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যকে নাম করে নিশানা করে তাঁর দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রদের এক ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তা না হলে তাদের টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বিজেপি বিধায়কের এই ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই যাদবপুরের বিধায়কের নাম না করেই কটাক্ষ করেন ঋদ্ধি।
কী লিখলেন ঋদ্ধি?
ঋদ্ধি তাঁর পোস্টে লেখেন, 'সবে সবে ভোটে জিতলে গলার আওয়াজ বাড়ে বৈকি, ভোটের মার্জিনের সাথে সাথে চিৎকারের মার্জিনও বাড়ে, বাড়ে বাজে কথাও, বিশেষ করে তখন যখ জয়ী প্রার্থী জানে যে কাজ বা পরিশ্রম দিয়ে এই জয় ধরে রাখার মরিয়া প্রচেষ্টা, তবে বেশিদিন চিৎকার করে লাভ নেই, শাক দিয়ে পৃথিবীর কোনও ক্ষমতা মাছ ঢাকতে পারেনি।' অভিনয়ের প্রসঙ্গ টেনে ঋদ্ধি লেখেন, 'আপাতত কিছুদিন অভিনয়টা আরেকটু মন দিয়ে করতে হবে।’ তাঁর মতে, সাজপোশাক ঠিক থাকলেও ‘vocal modulation’ বা গলার স্বরের ওঠানামার দিকে আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন।' সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় লাগাতার উঁচু স্বরে কথা বললে তা শুনতে একঘেয়ে লাগে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঋদ্ধিকে সমর্থন নেটিজেনের একাংশ
ঋদ্ধির এই পোস্টকে যেমন অনেকে সমর্থন করেছেন তেমনি অনেকে ব্যঙ্গ করতেও ছাড়েননি। যেখানে অনেকেই শর্বরীর এই আচরণ নিয়ে সমালোচনা, কটাক্ষ, নিন্দা করতে ছাড়েননি। প্রসঙ্গত, ঋদ্ধি তাঁর প্রতিবাদী স্বভাবের জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত। তবে শুধু ঋদ্ধি নন, টলিপাড়ার একাধিক সিপিএম সমর্থিত তারকারাও যাদবপুর কাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।