
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় পুলিশ জানতে পেরেছে যে অভিযুক্তদের রেকি করার পদ্ধতিও। যা এই তদন্তকে নতুন মোড় দিয়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের সূত্র বলছে, অভিযুক্তরা মুম্বইতে একাধিক বলিউড তারকাদের বাড়ি রেকি করেছে। আর এই কাজের জন্য তারা এক অটো চালকের সাহায্য নিয়েছিল বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ। এই কাজের জন্য অটো চালককে তারা ১০০০ টাকাও দিয়েছিল।
ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই তথ্যের ভিত্তিতে এখন অভিযুক্তদের কার্যকলাপ, তাদের সম্ভাব্য নিশানায় কারা ছিলেন এবং রেকি করার পর যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ১১১ ধারাও যুক্ত করেছে, যা সংঘবদ্ধ অপরাধ সংক্রান্ত, এবং এর ফলে মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তে এও উঠে এসেছে যে অভিযুক্তরা জেরাতে জানিয়েছে মুম্বই আসার পর তারা আন্ধেরি ইস্টের একটি হোটেলে ছিল, নাম আরআর। সেখান থেকে তারা রোজ বের হতো এবং রাস্তায় যে কোনও অটো পেলেই থামাত।
জেরায় অভিযুক্তরা জানিয়েছে, অভিযুক্তরা অটো চালকদের বলত যে তারা প্রথমবার মুম্বই এসেছে এবং বলিউডের বড় বড় তারকাদের বাড়ি দেখতে চায়। এরপর অটোতে করে তারা বিভিন্ন অভিনেতাদের বাড়ি ঘুরতো এবং এই কাজের জন্য অটো চালকদের ১০০০ টাকা পর্যন্ত দিত। তদন্তে আরও জানা গেছে যে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সেলিব্রিটির বাড়ি ও তার আশেপাশের এলাকা রেকি করার জন্য বারবার অটো চালকদের টাকা দিয়েছিল। এই সময়ে তারা তথ্য সংগ্রহের জন্য যে স্থানগুলো ব্যবহার করত, পুলিশ সেগুলোর তদন্ত করছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্তদের হাতে পিস্তল আসার পর, তারা মহড়া দিতে চাইছিল। আর যে কারণে আশপাশের কোনও জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা অটো চালককে ৪০০ টাকা দিয়েছিল। যদিও অভিযুক্তরা নির্দিষ্টভাবে সেই জায়গাটির কথা মনে করতে না পারলেও, তদন্তকারীরা মনে করছেন যে সেটা শহরতলির পশ্চিম দিকের কোনও অংশ হতে পারে। অস্ত্র দিয়ে এই মহড়া চালানোর সময় একজনের অস্ত্র বিকল হয়ে যায়, এরপর তারা হোটেলে ফিরে যায় এবং সেই বিকল অস্ত্রটিকে সারানোর চেষ্টা করে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে। সেই সময় আচমকাই পিস্তল থেকে আচমকা গুলি বেরিয়ে হোটেল রুমের দেওয়ালে লাগে, বলে জানতে পারে তদন্তকারীরা।
এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আরও একটি বিষয় সামনে উঠে এসেছে। তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সব সময় অটো চালকদের ওপর নির্ভর করতেন না। বেশ কয়েকবার তারা নিজেরাই গুগলে বলিউড অভিনেতাদের বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বের করে অটো চালকদের সেই ঠিকানা দিয়ে সেখানে যেত। পুলিশ এখন তদন্ত করছে যে অভিযুক্তরা কতগুলো তারকাদের বাড়ি রেকি করেছিল, তাদের কার্যকলাপ কতদিন ধরে চলেছিল এবং এই সময়ে কোনও নির্দিষ্ট বাড়ি বা স্থানকে করা হয়েছিল কিনা। তবে এখনও তদন্ত চলছে, তাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু সামনে আসেনি।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তে আরও জানা গেছে যে, ওই তিন হামলাকারী বেশ কয়েকজন বলিউড অভিনেতার বাড়িতে রেকি করেছিল। পুলিশ এখন তাদের মুম্বইয়ে তাদের গতিবিধি, রেকি করার সময় সংগৃহীত তথ্য এবং অন্যান্য সম্ভাব্য যোগসূত্রগুলি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, টাইগারকে প্রথম থেকেই নিশানা করার পরিকল্পনা ছিল না অভিযুক্তদের। বরং, অন্য এক তারকার কাছে পৌঁছনো কঠিন হওয়ায় নিরাপত্তার তুলনায় কম সুরক্ষিত টাইগারকেই নিশানা করা হয় বলে অভিযোগ।
টাইগার শ্রফ গুলি চালানোর ঘটনায় ক্রাইম ব্রাঞ্চ ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ১১১ ধারা যুক্ত করেছে। ১৮ অক্টোবর মুম্বইয়ের জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে শহরে ছিলেন দুই অভিযুক্ত শুটার। তাঁদের নাম ফুল সিং এবং রেহান আনসারি। দু’জনেরই বয়স ১৮ বছর। তাঁরা হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় নতুন করে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফলে গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০।